Thu. Oct 28th, 2021
পাচার হওয়া ৩৫ নারীকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে ।

দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে ভারতে পাচার হওয়া ৩৫ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এরই মধ্যে হস্তান্তরের বিষয়ে যশোরের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। আর উদ্ধার হওয়াদের তথ্যগতভাবে সহায়তা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ নিয়ে গত ১০ বছরে দেশে ফিরেছেন অন্তত আড়াই হাজার বাংলাদেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেসরকারি সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার গত তিন বছরে অন্তত ৪৫০ জনকে ফিরিয়ে এনেছে। আর ১০ বছরে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ও যশোর রাইটস ফিরিয়ে এনেছে ২ হাজার জনকে।সূত্র জানায়, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে ৩৫ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করা হবে। পরে পাচার প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা এনজিও সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ এসব নারী-পুরুষ, শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগও নেওয়া হবে। এসব নারী-পুরুষ ও শিশুর বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায়। এদের বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। দুই-তিন বছর আগে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে তাদের ভারতে পাচার করা হয়েছিল। ফিরে আসাদের বিষয়ে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধারের তালিকায় আছে কুমিল্লার সাহান হাওলাদার, খুলনার আনন্দ মন্ডল, মুস্তাফিজুর রহমান, শিমুল শেখ, আবুল হাসান ও মোস্তফা গাজী, যশোরের আয়শা শেখ, জেসমিন বিবি, রুহুল হোসেন, রাকিব শেখ, শাকিল শেখ ও শাকিব হাসান, গোপালগঞ্জের জোবায়ের সরদার, বাগেরহাটের লাবণী আক্তার, রহিমা খান, রাকিব, শাহিল ফারাজি, আবু সালেহ শেখ, শহিদুল, রাকিব হাওলাদার, মুন্সীগঞ্জের আরিন বাইদা, সাতক্ষীরার মাজেদা খাতুন, সুশান্ত মন্ডল, হালিমা খাতুন, ঠাকুরগাঁওয়ের নিত্যনন্দ রায়, রাজবাড়ীর প্রিয় বালা, সুনামগঞ্জের আমেনা খাতুন, পিরোজপুরের মুক্তা আক্তার, নড়াইলের নিশা আক্তার, আবু বক্কর, বিদি খাতুন, রাজশাহীর রোমী খাতুন, ফরিদপুরের নারগিস খাতুন, বরিশালের জুয়েল সরদার ও কুড়িগ্রামের শাহজালাল। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কান্ট্রি ডিরেক্টর তরিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, তালিকায় ৩৬ জন ছিলেন। এরমধ্যে একজন মারা গেছেন। এদের ভারতীয় পুলিশ পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠায়। সেখান থেকে তাদের আশ্রয় হয় পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় এনজিও সংস্থা শেল্টার হোমে কিংবা সেফ হোমে। পরে উদ্ধার হওয়ারা বাংলাদেশি কি না তা যাচাই করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে এসব নারী-পুরুষ এবং শিশুকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৪৫০ জনকে তারা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছেন। জানা গেছে, এর আগে গত ১৩ জুলাই ভারতে পাচার হওয়ার এক বছর পর এক তরুণী (২১) দেশে ফেরত আসে। ফেরত আসা মেয়েটির বাড়ি খুলনা সদরে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ভালো কাজের প্রলোভনে ভারতে পাচার হওয়া ১৯ বাংলাদেশিকে পাচারের দুই বছর পর দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন নারী, ২ জন পুরুষ ও ১ জন শিশু ছিল। এদের একজন রাজশাহীর, একজন নওগাঁর, দুজন বাগেরহাটের, তিনজন যশোরের, একজন চুয়াডাঙ্গার, দুজন পটুয়াখালীর, ছয়জন নড়াইলের, একজন খুলনার এবং একজন সুনামগঞ্জের। দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফেরত আসাদের মধ্যে ১৪ জনকে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার এবং পাঁচজনকে রাইটস যশোরের জিম্মায় পাঠানো হয়। আইনি সহায়তা দিয়ে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয় এনজিও দুটি। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান খান জানান, তারা ভারতে উদ্ধার হওয়াদের বিষয়ে তথ্যগত সহায়তা দিয়েছেন পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের মাধ্যমে। আর উদ্ধারের বিষয়টি তারা দেখছেন না। জানা গেছে, এ পর্যন্ত জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ১ হাজার ৬০০ জনকে ফিরতে সহায়তা করেছে। আর রাইটস যশোর সহায়তা করেছে ৪০০ জনকে। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত পাচারের ঘটনায় দেশে ও দেশের বাইরে ৬ হাজার ৭৩৫টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে ভুক্তভোগীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ১২ হাজার ৩২৪। সংখ্যাটি নারী, পুরুষ ও শিশু মিলিয়ে। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে দেশে ফেরত আনা হয়েছে ৯ হাজার ৭১০ জনকে। তবে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কান্ট্রি ডিরেক্টর তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানব পাচারের মামলা হয়েছে। এরমধ্যে ৪ হাজার ৩০০ এর মতো বিচারাধীন এবং বাকিগুলো তদন্তাধীন।

By HerNet

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *