পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের মুসলিমপাড়ায় স্বামী আর দুই সন্তান নিয়ে থাকেন নাসরিন জাহান। সচ্ছল পরিবারের মেয়ে, বিয়েও সচ্ছল পরিবারেই হয়েছে।২০০৮ সালে পরিবারের উৎসাহ পেয়ে ভালো জাতের তিনটি গরু কিনে বাড়ির এক পাশে নাসরিন ডেইরি ফার্ম নামে একটা খামার গড়ে তুলেন। বর্তমানে নাসরিনের ফার্মে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫টি গরু আছে। মূলধন দেড় কোটি টাকা। গবাদিপশু পালন করে বিক্রি করেন তিনি। পাইকারি দরে স্থানীয় বাজারে দুধও বিক্রি করেন।২০১৪ সালেএকটি বেসরকারি সংস্থা থেকে মিষ্টি তৈরির প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এখন তিনি অন্যদেরও মিষ্টি তৈরির প্রশিক্ষণ দেন। কলাপাড়া শহরে তার গড়ে তোলা মিষ্টি মেলা নামের দোকানে রসগোল্লা, কাঁচাগোল্লা, কালোজাম, রসমালাই, ক্ষীরমালাই, বেবি সুইট, লাল চমচম, সাদা চমচম, তাসনি চপ, পাটিসাপটা ও ছানা পাওয়া যায়। এ ছাড়াও মেলে দই আর ঘি।
কৃষি উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ২০১৩ সালে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ পেয়েছেন এই উদ্যমী নারী। ২০২১ সালে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে গবাদিপশু পালনে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম হন নাসরিন জাহান। ২০২০ সালেও একইভাবে সেরার পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া বাছুর পালনে ২০১৮ সালে পটুয়াখালী জেলায় তিনি শ্রেষ্ঠ খামারির স্বীকৃতি পান।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গাজী মো. শাহআলম বলেন, দারুণ কাজ করে চলেছেন নাসরিন জাহান। তাঁর আগ্রহ দেখে আমরাও অনুপ্রাণিত হয়েছি। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আমরা তাঁকে পশুসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধসহ যাবতীয় সহায়তা দিচ্ছি। আজ তাঁকে অনুকরণ করে অনেকেই গবাদিপশু পালনে উত্সাহী হয়েছেন।