বাংলা, বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্ম হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সংগঠনটির নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’। পাকিস্তান আমলে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। স্বাধীনতার পর নাম হয় ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ আর নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি তুলে ধরেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে– ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দৃশ্যমান, লক্ষ্য এবার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ। শেখ হাসিনার পরিকল্পিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর নেতৃত্ব দেবে ছাত্রলীগ। ৭৫তম বর্ষপূর্তিতে এটিই আমাদের সংকল্প।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিগুলো হচ্ছে, সকাল ৬টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, এরপর সকাল ৮টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এবং বিকেল ৩টায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে। আগামী ৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা করবে সংগঠনটি।

এছাড়া রয়েছে শেখ হাসিনার উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে ‘শর্ট ফিল্ম কম্পিটিশন’ আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ডেভেলপমেন্ট কুইজ আয়োজন। নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন ও শেখ হাসিনা’ শীর্ষক বক্তব্য প্রতিযোগিতা। ‘সজীব ওয়াজেদ জয় প্রোগ্রামিং কনটেস্ট’ আয়োজন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ থেকে ৮ জানুয়ারি রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও সংগৃহীত রক্ত বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে।