বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কূটনীতির ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করে হারনেট ফাউন্ডেশন ও হারনেট ফাইন আর্টস আয়োজিত আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী “ইকোজ অব বেঙ্গল – আর্ট ফর পিস পিলগ্রিমেজ”-এর গ্র্যান্ড ওপেনিং সেরিমনি অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩ জুলাই ২০২৬, রোমের ঐতিহাসিক পালাজ্জো দেল্লা কানচেলেরিয়া-এর গ্র্যান্ড হল-এ।
এটি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের জন্য এক অভূতপূর্ব অর্জন। প্রথমবারের মতো একটি বাংলাদেশি শিল্পসংস্থা ভ্যাটিকান সিটির পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে রোমের এমন এক ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি, মানবিকতা ও শান্তির বার্তা তুলে ধরেছে। প্রদর্শনীটি হোলি সি বা ভ্যাটিকানের ডিক্যাস্টেরি ফর কালচার অ্যান্ড এডুকেশন-এর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ঢাকাস্থ হোলি সি দূতাবাস বা অ্যাপোস্টলিক নানসিয়েচার-এর সহযোগিতায় আয়োজিত হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের আর্চবিশপ, বাংলাদেশে নিযুক্ত অ্যাপোস্টলিক নানসিও মহামান্য আর্চবিশপ কেভিন এস. র্যান্ডাল, প্রিন্স হুগো উইন্ডিশ গ্রেৎস, বিশপ পল টাই, রোবের্তো কোল্লাভালে, রেসপনসাবিলে এভেন্তি, আম্মিনিস্ত্রাজিওনে পাত্রিমোনিও সেদে আপোস্তোলিকা, হারনেট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনির প্রধান, হারনেট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলিশা প্রধান, হারনেট ফাউন্ডেশনের পরিচালক রায়ান প্রধান, হারনেট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন হোসনা প্রধান এবং হারনেট ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ মেহজাবিন প্রধান ফাইজা।
“ইকোজ অব বেঙ্গল – আর্ট ফর পিস পিলগ্রিমেজ” শুধু একটি শিল্প প্রদর্শনী নয়; এটি বাংলাদেশের আত্মা, ইতিহাস, স্মৃতি, মানবিকতা, সহনশীলতা ও সৃজনশীল শক্তিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক নগরী রোমে উপস্থাপনের এক শক্তিশালী উদ্যোগ। শিল্পের সর্বজনীন ভাষাকে কেন্দ্র করে এই প্রদর্শনী বাংলাদেশ, হোলি সি, ইতালি এবং আন্তর্জাতিক শিল্পসমাজের মধ্যে সৌহার্দ্য, সংলাপ ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন নির্মাণের এক ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা।
কিউরেটর আলিশা প্রধানের ভাবনা ও নেতৃত্ব
প্রদর্শনীটি পরিকল্পনা ও কিউরেট করেছেন আলিশা প্রধান, হারনেট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক এবং হারনেট ফাইন আর্টসের প্রধান কিউরেটর। তাঁর কিউরেটোরিয়াল ভাবনা ও নেতৃত্বে “ইকোজ অব বেঙ্গল” বাংলাদেশের সিনিয়র শিল্পী, সমকালীন শিল্পী, নারী শিল্পী, তরুণ শিল্পী, প্রবাসী শিল্পী এবং আন্তর্জাতিক শিল্পীদের এক বহুমাত্রিক প্ল্যাটফর্মে একত্র করেছে।
আলিশা প্রধানের কিউরেটোরিয়াল ভিশনে এই প্রদর্শনী শুধু একটি নান্দনিক অভিজ্ঞতা নয়; বরং এটি শান্তি, সাংস্কৃতিক মর্যাদা, মানবিক সংযোগ এবং বৈশ্বিক সংলাপের এক মানবিক যাত্রা। তাঁর নেতৃত্বে হারনেট ফাইন আর্টস বাংলাদেশের শিল্পকে ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, গ্যালারি, জাদুঘর ও সংগ্রাহকদের সামনে তুলে ধরার একটি দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে কাজ করছে।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা
এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের সিনিয়র ও সমকালীন শিল্পীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করেছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যুক্তরাজ্য থেকে অংশগ্রহণকারী পিটার জোনাস তাঁর শক্তিশালী আন্তর্জাতিক শিল্পীসত্তা, অভিজ্ঞতা ও স্বতন্ত্র সৃজনশীল ভাষার মাধ্যমে প্রদর্শনীতে একটি উচ্চমানের বৈশ্বিক মাত্রা যোগ করেছেন। তাঁর অংশগ্রহণ “ইকোজ অব বেঙ্গল”-কে দক্ষিণ এশীয় শিল্প, ইউরোপীয় শিল্পসংবেদন এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সংলাপের এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে পাওলা বেলফোরে-এর অংশগ্রহণ প্রদর্শনীর আন্তর্জাতিক সংযোগকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন:
এ. রহমান, আহমেদ নওয়াজ, আনিসুজ্জামান আনিস, দিলরুবা লতিফ, ফরিদা ইয়াসমিন পারভীন, হাসুরা আখতার রুমকি, জামাল আহমেদ, লুৎফা মাহমুদা, মো. জিয়াউর রহমান, পাওলা বেলফোরে, পিটার জোনাস, রাজাউল ইসলাম লাভেলু, রত্নেশ্বর সূত্রধর, রোকেয়া সুলতানা, সুলতানুল ইসলাম, উত্তম কুমার কর্মকার এবং জান্নাত কেয়া।
বরেণ্য ও কিংবদন্তি শিল্পীদের কাজের অন্তর্ভুক্তি
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের শিল্প-ইতিহাস, আধুনিক শিল্পচর্চা এবং সমকালীন শিল্পধারার গুরুত্বপূর্ণ বরেণ্য, প্রবীণ ও কিংবদন্তি শিল্পীদের কাজও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই অন্তর্ভুক্তি “ইকোজ অব বেঙ্গল”-কে শুধু একটি সমকালীন প্রদর্শনী নয়, বরং বাংলাদেশের শিল্পঐতিহ্য, জাতীয় পরিচয় এবং সৃজনশীল ধারাবাহিকতার এক শক্তিশালী আন্তর্জাতিক উপস্থাপনায় পরিণত করেছে।
অন্তর্ভুক্ত শিল্পীরা হলেন:
আবদুল মান্নান, আবদুস সাত্তার, আহমেদ শামসুদ্দোহা, আল-আখির সরকার, বীরেন সোম, এলহাম হক, ফারিহা জেবা, ফরিদা জামান, হাবিবা আখতার রিন্তা, জাহাঙ্গীর হোসেন, কনক চাঁপা চাকমা, কারু তিতাস, মো. মুনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ ইউনুস, মোহাম্মদ ইকবাল, মনিরুল ইসলাম, নাঈমা হক, পলি রানী কর্মকার, প্রদ্যুৎ কুমার দাস, রফিকুন নবী, রঞ্জিত দাস, রেজাউল নবী, সামিনা নাফিস, শাহিন সোবহানা সুরভী, শেখ আফজাল, সৈকত হোসেন, সৈয়দ জাহিদ ইকবাল, তরুণ ঘোষ, উম্মে হাবিবা সুমি এবং ভিনিতা করিম।
এই শিল্পীদের কাজের উপস্থিতি প্রদর্শনীটিকে বাংলাদেশের শিল্পধারার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের এক সমন্বিত সাংস্কৃতিক বয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
পালাজ্জো দেল্লা কানচেলেরিয়ার প্রাঙ্গণে আর্ট ক্যাম্প
প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে পালাজ্জো দেল্লা কানচেলেরিয়া-এর ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। রোমের প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক পরিবেশের মধ্যে বাংলাদেশের শিল্পীরা ক্যানভাস, রং, স্মৃতি ও কল্পনার মাধ্যমে বাংলার শিল্পভাষা তুলে ধরেন।
আর্ট ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন:
এ. রহমান, আহমেদ নওয়াজ, আনিসুজ্জামান আনিস, দিলরুবা লতিফ, ফরিদা ইয়াসমিন পারভীন, হাসুরা আখতার রুমকি, জামাল আহমেদ, লুৎফা মাহমুদা, মো. জিয়াউর রহমান, পাওলা বেলফোরে, পিটার জোনাস, রাজাউল ইসলাম লাভেলু, রত্নেশ্বর সূত্রধর, রোকেয়া সুলতানা, সুলতানুল ইসলাম, উত্তম কুমার কর্মকার এবং জান্নাত কেয়া।
আর্ট ক্যাম্প চলাকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত অ্যাপোস্টলিক নানসিও মহামান্য আর্চবিশপ কেভিন এস. র্যান্ডাল এবং হারনেট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনির প্রধান শিল্পীদের কাজ ঘুরে দেখেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সৌজন্য বিনিময় করেন। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যা এই সাংস্কৃতিক উদ্যোগের কূটনৈতিক গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করে।

হারনেট ফাউন্ডেশন ও হারনেট ফাইন আর্টস
হারনেট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশভিত্তিক একটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি উদ্যোগনির্ভর সংগঠন, যা গত সাত বছর ধরে অন্তর্ভুক্তি, সৃজনশীলতা, নারীর নেতৃত্ব, সামাজিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে। কঠিন সময়েও হারনেট ফাউন্ডেশন গত বছর থেকে বহু শিল্প উদ্যোগ আয়োজন করেছে এবং বাংলাদেশের শিল্পীদের জন্য নতুন সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
হারনেট ফাইন আর্টস হলো হারনেট ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক ও শিল্পভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এর লক্ষ্য বাংলাদেশের শিল্পীদের আন্তর্জাতিক গ্যালারি, জাদুঘর, সংগ্রাহক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক দর্শকদের সঙ্গে সংযুক্ত করা। “ইকোজ অব বেঙ্গল – আর্ট ফর পিস পিলগ্রিমেজ” হারনেট ফাইন আর্টসের আন্তর্জাতিক যাত্রার এক ঐতিহাসিক সূচনা, যার ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে ইউরোপ, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে আরও শিল্প আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এক সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের মুহূর্ত
“ইকোজ অব বেঙ্গল – আর্ট ফর পিস পিলগ্রিমেজ” বাংলাদেশের জন্য এক সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের মুহূর্ত। রোমের পালাজ্জো দেল্লা কানচেলেরিয়া-এর মতো ঐতিহাসিক স্থানে বাংলাদেশের শিল্প, শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় উপস্থাপন শুধু একটি প্রদর্শনীর সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের সফট পাওয়ার, সাংস্কৃতিক কূটনীতি এবং বৈশ্বিক শিল্প-উপস্থিতির এক শক্তিশালী ঘোষণা।

এই প্রদর্শনী দেখিয়েছে, বাংলাদেশের শিল্প আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি, মানবতা, বিশ্বাস, সংলাপ এবং সাংস্কৃতিক সম্মানের ভাষায় কথা বলতে পারে। হারনেট ফাউন্ডেশন ও হারনেট ফাইন আর্টস বিশ্বাস করে, শিল্প সীমান্ত অতিক্রম করতে পারে, মানুষকে একত্র করতে পারে এবং বিশ্বে শান্তি ও বোঝাপড়ার নতুন পথ তৈরি করতে পারে।
মূল তথ্য
প্রদর্শনীর নাম: ইকোজ অব বেঙ্গল – আর্ট ফর পিস পিলগ্রিমেজ
স্থান: পালাজ্জো দেল্লা কানচেলেরিয়া, রোম, ইতালি
আর্ট ক্যাম্প: ১ জুলাই ২০২৬
গ্র্যান্ড ওপেনিং সেরিমনি: ৩ জুলাই ২০২৬
প্রদর্শনীর সময়কাল: ৩ জুলাই ২০২৬ থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬
আয়োজক: হারনেট ফাউন্ডেশন ও হারনেট ফাইন আর্টস
কিউরেটর: আলিশা প্রধান, হারনেট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক এবং হারনেট ফাইন আর্টসের প্রধান কিউরেটর
পৃষ্ঠপোষকতা: হোলি সি বা ভ্যাটিকানের ডিক্যাস্টেরি ফর কালচার অ্যান্ড এডুকেশন
সহযোগিতা: ঢাকাস্থ হোলি সি দূতাবাস বা অ্যাপোস্টলিক নানসিয়েচার
