শুরু হলো নতুন বছর, নতুন গণনা। একই সঙ্গে শুরু হলো ঘটনাবহুল বিশ্বআসলে কোন দিকে যাবে। এর মধ্যে শঙ্কা ও সম্ভাবনা দুটোই থাকে। চলতি বছর শুরুর মাসেই অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থাৎ এর পর থেকে আমরা বৈশ্বিক রাজনীতিতে ‘ট্রাম্প নীতির’ প্রভাব দেখতে পারব। ২০১৬ সালে প্রথম দফায় ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু ‘উল্টাপাল্টা’ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যেগুলো খোদ মার্কিন নীতিরও পরিপন্থি। এবারও কী তাই হবে? পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প তার পুরনো নীতি ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো- ট্রাম্প যখন প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই সময় ইউক্রেন যুদ্ধ ছিল না, গাজায় ৪৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ছিল না। এবার ট্রাম্পকে এই দুটোই সামলাতে হবে।

গত বছরের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সিরিয়া স্বৈরশাসকমুক্ত হয়েছে। বাশার আল আসাদ পালিয়ে মস্কোয় আশ্রয় নিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আবার উত্থান হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিরিয়ার কুর্দি কমান্ডার কিছুদিন আগে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে সিরিয়া সরকারের বেশ কিছু অস্ত্র আইসের হাতে চলে গেছে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশকে দায়মুক্তি দিলেও ইরানকে তিনি কখনোই ছাড়বেন না।

গাজা যুদ্ধ বন্ধ নিয়েও ট্রাম্প তার নির্বাচনে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর বিষয়টি কোন দিকে যায়, সেটি দেখবার বিষয়। সম্প্রতি কিছু খবরে দেখা গেছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি শেষপর্যায়ে রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছে, সমঝোতা ৯০ ভাগ শেষ। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনও চাইছে ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার আগে অস্ত্র বিরতির ঘোষণা আসুক। এর ফলে আশা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো গাজায় যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ইউরোপে উগ্রপন্থার উত্থান : ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উগ্র ডানপন্থিদের উত্থান দেখা গেছে। ফ্রান্স ও জার্মানি তার উদাহরণ। গত বছর ইউরোপের নির্বাচনগুলোয় দেখা গেছে, কট্টর ডানপন্থি ও অতি রক্ষণশীল দলগুলো থেকে রেকর্ডসংখ্যক আইনপ্রণেতা ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়েছেন।

জনগণ পরিবর্তন চায় : গত বছরের বিভিন্ন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলগুলো সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশে ক্ষমতাসীন দলগুলো পরাজিত হয়েছে। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশের নেতারা জোট গড়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছেন। তাইওয়ান ও ফ্রান্সের মতো দেশকে ঐক্য গড়ার পথে হাঁটতে হয়েছে। তাই ২০২৫ সালকে প্রত্যাশার বছর বলা যেতে পারে।