শেখ কামালকে স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ”১৯৭৫-এর সেই কালরাতে বঙ্গবন্ধু ভবনে ঢুকে প্রথমেই খুনিরা হত্যা করে শেখ পরিবারের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালকে। তবে শেখ কামালকে শারীরিকভাবে হত্যা করলেও বর্তমান বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে তার প্রদর্শিত পথ, আদর্শ এবং দিকনির্দেশনা আজও এক অনুকরণীয় মডেল।”
শনিবার (৫ আগস্ট), শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৪ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ”অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী মানুষটি একই সাথে ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র, নির্লোভ, নিরহংকারী ও সদালাপী। সাধারণ মানুষের সাথে তিনি মিশে যেতেন অতিসাধারণ হয়ে। যেকোনো মানুষের প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন তিনি ।’
প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করে বলেন, ”শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই উদযাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই।”
শেখ কামাল বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন। তিনি আমাদের মাঝে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে সদা জাগ্রত আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। আজ তাঁর ৭৪তম জন্মবার্ষিকীতে আমি তাঁকে গভীর মমতার মধ্য দিয়ে স্মরণ করছি। আমার বিশ্বাস, শেখ কামালের গঠনমূলক চিন্তার বাস্তবায়ন করতে পারলে শীঘ্রই আমাদের ক্রীড়াঙ্গন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ কামালের অবদানকে স্মরণীয় রাখার লক্ষ্যে এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ ক্রীড়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন, তাদেরকে ‘শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার- ২০২৩’ প্রদান করা হচ্ছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত সবাইকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এই পুরস্কার ক্রীড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আরও উৎসাহিত করবে এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে চলমান অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি আবাহনী সমাজকল্যাণ সংস্থা গঠন করেন দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই । মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে এসে গঠন করেন আবাহনী ক্রীড়াচক্র। ফুটবলের পাশাপাশি আবাহনী ক্রীড়াচক্রের অধীনে তিনি হকি, ক্রিকেট এবং টেবিল টেনিস দলও গঠন করেন।
প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সাথে বলেন, শেখ কামাল একাধারে যেমন ক্রীড়া সংগঠক এবং ক্রীড়াবিদ ছিলেন, তেমনি ছাত্র হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মনেপ্রাণে দেশীয় সংস্কৃতি লালন এবং চর্চা করতেন।
প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষে শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সব অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করেন।