মধ্যপ্রদেশের ভারতের কর্ণাটক কলেজে হিজাব বিতর্কের পর এবার ছাত্রীদের বোরখা পরা নিয়ে সহিংসতা মুম্বাই মহারাষ্ট্রের একটি কলেজে। অভিযোগ উঠেছে বুধবার বিজেপি শাসিত ওই রাজ্যের রাজধানী মুম্বাইয়ের একটি কলেজে বোরখা পরা ছাত্রীদের প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হয়। স্থানীয় সূত্র মাধ্যমে জানা গিয়েছে, মুম্বাইয়ের চেম্বুরের ওই কলেজে পোশাকবিধি নির্দিষ্ট রয়েছে বলে ক্যাম্পাসে কয়েকজন মুসলিম ছাত্রীকে বোরখা পরিহিত অবস্থায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ঘটনার জেরে কলেজের সামনে ছাত্রীদের মধ্যে কয়েকজনের অভিভাবক এবং স্থানীয়দের একাংশ বিক্ষোভ সমাবেশ করে। পরিস্থিতি বেগতিক হলে পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনে ।
যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্ক চলছে সেই কলেজ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, “কলেজের পোশাক পরার সময় কিছু শর্ত এবং নিয়ম মেনে চলতেই হবে।” এর আগে কর্ণাটকের একটি কলেজে হিজাব পরিহিত কয়েকজন মুসলিম ছাত্রীকে বসতে বাধা দেয়া হয়। কলেজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি রঘুপতি ভট্ট বলেছিলেন, ক্লাসে হিজাব পরিহিতরা ঢুকতে পারবেন না। রাজ্য-জুড়ে ওই বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে । একই বছরের ২৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে কর্ণাটক সরকারের শিক্ষা দফতর। ঘোষণা করা হয় যে ছাত্রীরা কেবলমাত্র ইউনিফর্ম পরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবেন কমিটি নির্দিষ্ট সুপারিশ করার আগে পর্যন্ত ।
সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্ণাটক হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করেন উদুপির কয়েকজন ছাত্রী ।আদালতকে তারা জানান, ”হিজাব পরা তাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। কোনোভাবেই তা বাতিল করা যাবে না।” কিন্তু কর্ণাটক হাইকোর্ট গত বছরের মার্চ মাসে মুসলিম ছাত্রীদের আবেদন খারিজ করে জানায়, “ইসলামে হিজাব পরা ‘বাধ্যতামূলক ধর্মীয় অনুশীলন’-এর মধ্যে পড়ে না।” এর ফলে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয়দের একাংশ হাইকোর্টে মামলার দ্বারস্থ হয়।
তবে গত অক্টোবরে বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত এবং বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়ার বেঞ্চ ‘ক্ষতি রায়’ দেয়ায় মামলাটি এখন শীর্ষ আদালতেরই উচতর বেঞ্চে রয়েছে। কর্ণাটক সরকারের ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধের নির্দেশ’ নিয়মটি দুই বিচারপতির বেঞ্চ স্থগিতাদেশ না দেয়ায় এখনো বহাল রয়েছে।
সূত্র : এবিপি