লোহার বিমের ওপর সুপারিগাছ দিয়ে সাঁকো বানিয়ে নেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হচ্ছে ৬ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ।দেখার কেউ নেই।সেতুর পাটাতনের স্ল্যাব ভেঙে গেছে। লোহার বিমের ওপর সুপারিগাছ দিয়ে চলাচল করছেন এলাকাবাসী। সম্প্রতি মঠবাড়িয়া উপজেলার সাংরাইল খালে সেতুর পাটাতনের স্ল্যাব ভেঙে গেছে। লোহার বিমের ওপর সুপারিগাছ দিয়ে চলাচল করছেন এলাকাবাসী। সম্প্রতি মঠবাড়িয়া উপজেলার সাংরাইল খালে। লোহার সেতুর পাটাতনের স্ল্যাবগুলো এক যুগ আগে ভেঙে যায়। তখন লোহার বিমের ওপর সুপারিগাছ দিয়ে সাঁকো বানিয়ে নেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হচ্ছে ৬ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার গোলবুনিয়া ও জানখালী গ্রামের সীমান্তবর্তী সাংরাইল খালের ওপর ওই সেতুর অবস্থান। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ বছর আগে সাংরাইল খালের ওপর ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের লোহার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৭ সালের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় সিডরে গাছ পড়ে সেতুটির পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে পাটাতনের রড ও সিমেন্টের তৈরি স্ল্যাবগুলো ভেঙে যেতে থাকে। ১২ বছর আগে সেতুটির স্ল্যাবগুলো ভেঙে যাওয়ায় সুপারিগাছ বিমের ওপর দেওয়া হয়। মেরামত না হওয়ায় এভাবেই লোকজন চলাচল করে আসছে।
সাংরাইল খালের সেতুর পূর্ব দিকে আমড়াগাছি ইউনিয়নের গোলবুনিয়া ও পশ্চিমে বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়নের জানখালী গ্রাম। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির লোহার বিমের ওপর থাকা পাটাতনের স্ল্যাবগুলো ভেঙে গেছে। শুধু লোহার খুঁটির ওপর বিম রয়েছে। বিমের ওপর সুপারিগাছ দিয়ে সরু সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। লোহার খুঁটি ও বিমে মরিচা ধরে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাংরাইল খালের সেতুটি দিয়ে গোলবুনিয়া, হোগলপাতি, কালিকাবাড়ী, জানখালী, চড়কখালী ও উলুবাড়িয়া গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। জানখালী উলুবাড়িয়া হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, জানখালী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জানখালী হাওলাদার বাড়ি দারুল আকরাম নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সেতুটি দিয়ে চলাচল করে। বিকল্প না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি দিয়ে চলাচল করছে।স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। তবে কোনো ফল মেলেনি। নিরুপায় হয়ে তাঁরা সেতুর ওপর এক পাশে সুপারিগাছ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। শিশুশিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় যেতে সেতুটি পার হতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনায় পড়ে। বাজারে কৃষিপণ্য নিতেও ভোগান্তিতে পড়েন কৃষকেরা।
জানখালী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, সেতুটি দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী হওয়ায় গুরুত্ব অনেক। সীমান্তবর্তী বেতমোর, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের লোকজন ছাড়াও বড়মাছুয়া ও সাপলেজা ইউনিয়নের মানুষ এ সেতু দিয়ে চলাচল করে। সম্প্রতি সেতু দিয়ে পড়ে এক শিশুশিক্ষার্থীর হাত ভেঙে যায়। ৩০ বছর আগে নির্মিত সেতুটির লোহার কাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে যেতে পারে। এখানে গার্ডার সেতু নির্মাণ খুবই জরুরি।উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল মালেক বলেন, সেতুটির স্ল্যাব ভেঙে গেছে। লোহার খুঁটি মরিচা ধরে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। এখানে গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে