গৌড় দরসবাড়ি মসজিদ। প্রাচীন এই মসজিদ এখন প্রায় ধ্বংসের পথে। দরসবাড়ি মানে হলো বিদ্যাপীঠ। মূলত একটি মাদরাসাকে কেন্দ্র করে এই মসজিদটি গড়ে উঠেছে। বর্তমানে কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত এর শিলালিপি অনুযায়ী মসজিদটি ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে শামসুদ্দীন আবুল মুজাফফর ইউসুফ শাহ কর্তৃক নির্মিত হয়।গৌড় দরসবাড়ি মসজিদ দেখতে হলে ঘুরে আসতে হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে।
একসময় দরসবাড়ি মসজিদ গৌড় লখনৌতির সুলতানি আমলের মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম সুন্দর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত ছিল। শহর স্থাপনের শুরুর দিকেই এটি নির্মিত হয়েছিল, অন্যান্য সমসাময়িক উদাহরণের মতো এটাও গৌড়ীয় রীতির অন্তর্ভুক্ত, যা পরে বাংলার অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং মধ্যযুগীয় স্বাধীন বাংলা রীতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
মধ্যযুগীয় বাংলার বৈশিষ্ট্যধারী এই জামে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে টেরাকোটা ফলক অলংকরণসহ ঈষৎ লাল বর্ণের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে এটি আচ্ছাদনবিহীন এবং সামনে একটি ভেঙে পড়া বারান্দা রয়েছে।একসময় মসজিদের ওপরে সর্বমোট চারটি চৌচালা আচ্ছাদন ও ২৪টি গম্বুজ ছিল, যার সব কয়টি এখন নিশ্চিহ্ন। এই মসজিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো মূল কক্ষের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত রাজকীয় গ্যালারি (কখনো এটাকে ভুলভাবে মহিলা গ্যালারি বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। বাইরে থেকে প্রবেশের জন্য ছিল সিঁড়িযুক্ত মঞ্চ, যা সশস্ত্র প্রহরী দ্বারা সুরক্ষিত থাকত। মসজিদের উত্তরে একটি প্রবেশপথ ছিল, এখন সেটি ধ্বংসপ্রাপ্ত। বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকা পাথর থেকে এর অস্তিত্ব অনুমান করা যায়। প্রতি কোণে অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ নির্মাণ করে মসজিদকে মজবুত করা হয়েছিল; পূর্বেরগুলো এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত, শুধু ভিত্তির কিছু অংশ টিকে আছে।