বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে অনেক নাম গণ্য হয়, তবে একটি নাম যে বারবার উঠে আসে তা হলো নুসরাত তাবাসসুম। একজন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত পরিবেশ থেকে বেরিয়ে রাজপথের উত্তাল আন্দোলনে নেমে পড়ার সিদ্ধান্তটি তার জন্য সহজ ছিল না। তবে তার অন্তরের ডাক এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি তাগিদ তাকে এই পথে টেনে আনে।

নুসরাতের নেতৃত্বে অনেক শিক্ষার্থী একত্রিত হয়। তার সমর্থন শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাগোয়ান গ্রাম থেকেও অনেকে তার ডাকে সাড়া দিয়েছে। তার কথা এবং কর্মে অনুপ্রেরণা পেয়ে অনেকেই আন্দোলনে যোগ দেন। নারী শিক্ষক, নারী আইনজীবী এবং সাধারণ নারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই আন্দোলন আরো বিস্তৃতি লাভ করে।

আন্দোলনের এই প্রেরণাদায়ক নেত্রীর সংগ্রামের কাহিনী অনেক তরুণীকে অনুপ্রাণিত করে। তারা নুসরাতের মতো আত্মবিশ্বাসী এবং সাহসী হয়ে ওঠে। তারা শিখে যে, ন্যায়ের পথে এগিয়ে চলার জন্য কখনও নারী বা পুরুষের ভেদাভেদ করা উচিত নয়। নুসরাত তাদের শেখায় যে প্রতিবাদের কোনো লিঙ্গ নেই, আছে শুধু ন্যায়ের দাবি।

যদিও নুসরাতের কথা ও কাজের মাধ্যমে অনেক পরিবর্তন এসেছে, তবুও আজও তার কর্মের সম্পূর্ণ স্বীকৃতি পাওয়া বাকি। আমাদের উচিত, নারীদের এই রকম অবদানকে আরো বেশি প্রচার ও স্বীকৃতি দেওয়া। নুসরাত তাবাসসুম শুধুমাত্র একজন নারী নেত্রী নয়, তিনি একজন প্রেরণা, যিনি দেখিয়ে দিয়েছেন যে ন্যায়ের লড়াইয়ে কেউ একা নয়।