মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর এর সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান সাংবাদিকদের জানান দেশের দুই জেলা চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামে টানা প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। এছাড়া একাধিক স্থানে পাহাড় ধসের মত ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল সোমবার (৭ আগস্ট) বান্দরবান সদরে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসে একই পরিবারের মা-মেয়ে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে বান্দরবান-থানচি সড়কের ১২ মাইল এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় রাস্তায় গাছ পড়ে বান্দরবান থেকে রুমা-থানচি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি।
গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বান্দরবানে ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে । এখনো বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
একটানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম শহরের রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে গেছে। এজন্য দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম চান্দনাইশ এলাকার রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রাস্তার ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি বয়ে যাচ্ছে। ফলে ওই পথ দিয়ে গাড়ি চলাচল অনিরাপদ হয়ে গেছে। এজন্য দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম নগরীসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়। শনিবার (৫ আগস্ট) রাত থেকে শুরু হয় প্রবল ভারি বর্ষণ। আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রবল ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির অবনতি ও পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি করে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সোমবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২১৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। পাশাপাশি আমবাগান আবহাওয়া অফিস ২০৮ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে।