বিজয়ের তিন দিন আগে ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর দুপুরে নওগাঁর মান্দা উপজেলার মনোহরপুর এলাকায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা। ওই দিন গ্রামটিতে মুক্তিকামী ১৬ জন বাঙালিকে হত্যা করা হয়।সেদিন পাকবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন মনোহর গ্রামের ফইমালী বেওয়ার স্বামী আছির উদ্দিন ও বাবা লাল মোহাম্মদ। স্বাধীনতা যুদ্ধের নীরব সাক্ষী ফইমালী বেওয়া বলেন, একাত্তরের যুদ্ধে শেষ হওয়ার তিন দিন আগে বিকালবেলা পাক বাহিনী ও রাজাকাররা হামাগের পুরা গ্রাম ঘিরে ফ্যালে। সেদিন ওরা গ্রামের ১০-১২টা বাড়ি পুড়ায়ে দেয়। ওদের হাতে হামার স্বামী ও বাপসহ ১৮ জন ধরা পড়ছিল।

২০১৬ সালে সরকারি উদ্যোগে ওই স্থানে শহীদ ব্যক্তিদের স্মরণে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়। সেই বছরই বধ্যভূমির স্থানটিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধের কারণে পরবর্তীতে প্রাচীন নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে এখনও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হয়নি। সীমানা প্রাচীর না থাকায় বধ্যভূমিটি সারা বছর অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে।

সম্প্রতি মনোহর বধ্যভূমিতে গিয়ে দেখা যায়, বধ্যভূমির যে স্থানটিতে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে গরুর গোবর শুকাতে দেওয়া হয়েছে। গণকবরের স্থানটিতে সীমানাপ্রাচীর নেই। অযত্ন-অবহেলায় নিশ্চিহ্ন হলে যাওয়া তেমনি এক বধ্যভূমি পত্নীতলা উপজেলার হালিমনগর বধ্যভূমি।একাত্তর সালের ৩০ নভেম্বর হালিমনগরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৩৬ জন মানুষকে সারিবদ্ধ করে গুলি করে হত্যা করে পাক-সেনারা। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মানুষের ত্যাগের এই স্মৃতিচিহ্নটি এখন আবাদি জমি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নওগাঁয় চিহ্নিত ৬৭ বধ্যভূমির মধ্যে ১২টি বধ্যভূমিতে শহীদ স্মৃতিফলক রয়েছে। এগুলো হলো সদর উপজেলার দোগাছি ও ফতেপুর; আত্রাইয়ের বান্দাইখাড়া ও শিংসাড়া; রাণীনগরের আতাইকুলা, মান্দার পাকুড়িয়া ও মনোহরপুর; মহাদেবপুরের বাজিতপুর-চকদৌলত; পত্নীতলার হালিমনগর; ধামইরহাটের কুলফতপুর; বদলগাছীর গয়েশপুর ও পাহাড়পুর। এগুলোর মধ্যে নওগাঁর পার-বোয়ালিয়া, মান্দার পাকুড়িয়া, আত্রাইয়ের বান্দাইখাড়া, বদলগাছীর গয়েশপুর ও পাহাড়পুর বধ্যভূমিতে সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। এই পাঁচটি বধ্যভূমি ছাড়া বাকি ৬২টি বধ্যভূমিই অরক্ষিত।