গত এক বছরে তিন হাজার ৪৯৫ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে নারী এক হাজার ৮৭৬ জন এবং কন্যাশিশু আছেন এক হাজার ৬১৯ জন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৩টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি রোববার সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৪৯৫ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতিত হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬৭২ জন কন্যা এবং ৩১৫ জন নারী।

মহিলা পরিষদের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯২ জন কন্যাসহ ৫০৭ জনকে বিভিন্ন কারণে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাচেষ্টা হয়েছে ৫২ জনের ওপর, এর মধ্যে ১২ জন কন্যাশিশু। ৬৯ জন কন্যাসহ ৩১০ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ৮২ জন কন্যাসহ ২৩৯ জনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৬ জন কন্যাসহ ৩৭ জন আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার হয়েছেন।এছাড়াও পাঁচজন নারী ও কন্যাশিশু আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। পিতৃত্বের দাবির ঘটনা ঘটেছে একটি। অপহরণের শিকার হয়েছে ১০৯ জন কন্যাসহ ১২৭ জন। অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে সাতজন নারী ও কন্যাকে। ফতোয়ার শিকার হয়েছেন নয়জন। দুই জনকে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে। জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা ঘটেছে দুটি। পুলিশি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে পাঁচটি। সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছেন ৫৭ জন। বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে ২৭টি।গত এক বছরে বাল্যবিবাহ ঠেকানো গেছে ৬১টি। এছাড়া ৩১জন কন্যাসহ ৯৪ জন বিচ্ছিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।