সারা বিশ্বেই রাজনীতিকে সবচেয়ে প্রভাবিত করে অর্থনীতির যে সূচক, তা হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। গবেষকেরা দেখিয়েছেন, একটি সরকারকে সবচেয়ে বেশি অজনপ্রিয় করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিভাগের অধ্যাপক হ্যারল্ড জেমস ২০২৩ সালে লিখেছিলেন, গণতন্ত্রে নির্বাচনের ফলাফল প্রায়ই বাজারদরের ওপর নির্ভর করে। তবে স্বৈরাচার বা কর্তৃত্ববাদী সরকারও যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিপদে পড়ে, এমন উদাহরণও আছে।
সরকারের সামনে এখন অনেক এজেন্ডা। শিক্ষার্থী হত্যার বিচার; পাচার করা অর্থ ফেরত আনা; পুলিশ, প্রশাসন, নির্বাচনব্যবস্থা ও সংবিধান সংস্কার; ব্যাংক খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করা, শ্বেতপত্র প্রণয়ন, ইত্যাদি। তবে মনে রাখতে হবে, সাধারণ মানুষের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে মূলত দুটি বিষয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বাজারদর। সুতরাং অন্তর্বর্তী সরকারকে এই দুই দিকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নজর দিতে হবে। এটা ঠিক যে অন্তর্বর্তী সরকার উত্তরাধিকারসূত্রেই এই উচ্চ মূল্যস্ফীতি হাতে পেয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে গত আগস্ট মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ হয়েছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে বলা হয় অর্থনীতির নীরব ঘাতক। আর এই ঘাতক কতটা নির্মম হতে পারে, তা দেশের মানুষ দেখেছে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে। অথচ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই মুদ্রানীতির কার্যকর ব্যবহার করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ৯ অক্টোবর সচিবালয়ে বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। একটু সময় লাগবে।’ এ জন্য তিনি অধৈর্য না হতে বলেছেন। তবে বাজারের যে পরিস্থিতি, তাতে মানুষের পক্ষে ধৈর্য ধরা কঠিন হয়ে পড়েছে।