জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা সংকট এবং এর টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ক্রমাগত অবনতি এবং রাজনৈতিক নেতাদের নির্বিচারে আটকের বিষয়টি উল্লেখ করে রেজুলেশনে সহিংসতা বন্ধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার পরিস্থিতির যুক্তরাজ্য প্রস্তাব পেশ করলে ১২-০ ভোটে গৃহীত হয়।নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের তথ্যমতে, নিরাপত্তা পরিষদের কোনো সদস্যই এ রেজুলেশনের বিরুদ্ধে ভোট বা ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার না করলেও চীন, রাশিয়া ও ভারত ভোটদানে বিরত থাকে।২০১৭ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের অস্থায়ী আশ্রয় শিবির থেকে তাদের স্বদেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে।বর্তমানে মানবিক বিবেচনায় ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে বাংলাদেশ।

রেজুলেশনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করা হয়েছে। এতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবর্তন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রেজুলেশনে রাখাইন রাজ্যে সংকটের মূল কারণগুলোকে মোকাবিলা করার এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয় জাতিসংঘ।