নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, যৌতুক ও বাল্যবিয়ে রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, এ সংক্রান্ত কমিটির মনিটরিং এবং আইনের সঠিক বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরকারের কার্যক্রম যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকায় ইস্কাটনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সভাক্ষ থেকে অনলাইনে চট্রগ্রাম (৫ জন) ও সিলেট (৫ জন) বিভাগের মোট দশ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, সরকারের নারীবান্ধব উন্নয়ন ও নীতি কৌশল বাস্তবায়নের ফলে গত এক যুগে সরকারি, বেসরকারি, আত্মকর্মসংস্থানসহ উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নারী উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার জন্য।
ধানমন্ডিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার তলা ভবন নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। জয়িতাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্যহীন ও সমতা ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার জয়িতাদের চিহ্নিত করে তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ জয়িতারাই আজ দেশে সফলতার প্রতীক।
তিনি বলেন, নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি সুযোগ চায় না, সমান সুযোগ চায়। বঙ্গবন্ধু এমন একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যে রাষ্ট্র হবে শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত, যে রাষ্ট্রের নারী-পুরুষ সমানভাবে নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী দেশের উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে। বঙ্গবন্ধু কন্যার সুদৃঢ় নেতৃত্বে নারীরা আজ পুরুষের সমান যোগ্যতা প্রমাণ করেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে বেশি যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, বিরোধী দলীয় নেত্রী নারী ও সংসদ উপনেতা নারী। যা সারা বিশ্বে বিরল। যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন।
চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অন্য নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ জয়িতারা নিজ নিজ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কাছ থেকে সম্মাননা স্মারক, নগদ অর্থ ও সনদ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা সিলেট বিভাগের জয়িতাদের নিয়ে জয়িতা তোমরাই বাংলাদেশের বাতিঘর স্মরণিকার মোড়ক উম্মোচন করেন।