গ্রামবাংলার ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে দিনাজপুরে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী পিঠা উৎসব। চলতি বছরের ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি। এ সময় পুলিশ সুপার শাহ ইফতেকার আহমেদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরূপ বক্সী বাচ্চু প্রমুখ।
উৎসবে হরেক রকম পিঠার পসরা সাজিয়ে হাজির হয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা। উৎসবের প্রথম দিন থেকেই ভিন্নধর্মী ও বাহারি পিঠাপুলি ও মুখরোচক খাবারের সমাহার নিয়ে হাজির হওয়া স্টলগুলোতে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতিতে পিঠা একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পিঠা ছাড়া বাঙালির জীবনে শীত যেন পরিপূর্ণতা পায় না। সুস্বাদু-মুখরোচক পিঠা মানেই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। আর এ পিঠা গ্রাম ছাড়িয়ে এখন শহরেও ব্যাপক জনপ্রিয়। শহরে মানুষের কাছে পিঠার কদর ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে এই পিঠা উৎসব। আর পিঠার স্বাদ নিতে বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষের উপচে পড়া ভিড় সেই পিঠা উৎসবে।
পিঠা শুধু বাড়ি থেকেই তৈরি করে আনা হয়েছে তা নয়, অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য অনেক স্টলেই তৈরি হচ্ছে গরম গরম পিঠা। এর মধ্যে রয়েছে পুলি পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, নারিকেল পিঠা, ভাপা পিঠা, দুধপুলি, দুধরাজ, গোকুল পিঠা, রসপিঠা, সন্দেশ, জামাই পিঠা, মালপোয়াসহ নানান ধরনের পিঠার দোকান।
প্রতিভা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে নিজেদেরও স্বাবলম্বী করার এমন সুযোগ পেয়ে খুশি নারী উদ্যোক্তারা। পিছিয়ে পড়া নারী উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করতে এমন আয়োজন উল্লেখ করে গার্লস অব হ্যাভেনের মডারেটর পিংকী তানিয়া আর এডমিন সাদিয়া খান বলেন ‘আমাদের এই আয়োজন মূলত নারী উদ্যোক্তাদের একত্রিত করা।
জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি বলেন, বাঙালির লোকজ সংস্কৃতিকে সমুন্নত করতে চিরায়ত পিঠা উৎসব। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে আয়োজকদের আহ্বান জানান তিনি।
২২ হাজার নারী সদস্যের পরিবার অনলাইন ফেসবুক গ্রুপ ‘গার্লস অব হ্যাভেন’ এর আয়োজনে উৎসবে ২৭টি স্টলে স্থান পেয়েছে উদ্যোক্তাদের বাহারি রকমের পিঠাপুলি। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে।