Tue. May 11th, 2021
নতুন করে স্বপ্ন দেখছে সেই ৫ কিশোরী

পারিবারিক অবস্থার কারণে পড়াশোনা শেষ না হতেই বিয়ের কথা ওঠে। এ কারণে মাধ্যমিকের বেশি পড়াশোনা করার কথা ভাবতই না রাজশাহীর পবা উপজেলার ক্ষুদ্র জাতিসত্তার পাঁচ কিশোরী। তাদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে গত শনিবার শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তর থেকে।

রাজশাহী নগরের সমন্বিত নগর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এতে বেশির ভাগ শ্রমিক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর। বড়দের সঙ্গে প্রতিদিনই ভটভটিতে চেপে পবা থেকে প্রকল্পের কাজ করতে আসে কয়েক কিশোরী। গত শনিবার তাদের নিয়ে প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণে ‘ওরা শ্রমিক থেকে শ্রমিক হচ্ছে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে প্রতিবেদন দেখে শনিবার দুপুরে পাঁচ কিশোরীর ঠিকানা জোগাড় করে ডেকে নিয়ে আসেন পবার ইউএনও শিমুল আকতার। লেখাপড়া শেষ করার শর্তে ইউএনও ‘প্রধানমন্ত্রীর সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প’ থেকে তাদের পাঁচজনকে একটি করে বাইসাইকেল, স্কুলব্যাগ, ছয়টি খাতা, এক ডজন কলম, পেনসিল ও একটি করে জ্যামিতি বক্স দেন।

কিশোরীরা ইউএনওকে অনুরোধ করে, পরিবার থেকে যেন এখনই তাদের বিয়ে না দেয়, এটা তাঁকে (ইউএনও) দেখতে হবে। তারা লেখাপড়া শেষ করতে চায়।

ওই পাঁচ কিশোরী হলো কিরণ বিশ্বাস, সঞ্চিতা বিশ্বাস, শ্যামলী বিশ্বাস, কণিকা বিশ্বাস ও ঝরনা হেমব্রম। বাইসাইকেল ও শিক্ষা উপকরণ পেয়ে কিরণ বিশ্বাস জানায়, পরিবার থেকে সব সময় বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ জন্য সে বিয়ে করার কথা বলেছিল। আসলে সে পড়াশোনা করতে চায়। কিরণ বলে, তার অনেক দিনের স্বপ্ন পড়াশোনা করে নার্স হবে। কিন্তু পরিবার ও পারিপার্শ্বিক কারণে তা কাউকে কখনো বলতে পারেনি।

ঝরনা বলে, সে আগে থেকেই ভাইয়ের সাইকেল চালাত। এক দিন স্কুল ছুটি থাকলেই শ্রমিক হিসেবে কাজে যায়। নিজের সাইকেল হবে। সেই সাইকেলে চড়ে স্কুলে যাবে, এটা সে কখনো কল্পনাই করেনি।

ইউএনও শিমুল আক্তার বলেন, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলে এই কিশোরীদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

By HerNet

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *