বন্যায় দেশের অন্যান্য রেললাইনের মতো কক্সবাজারের পথে প্রায় এক কিলোমিটার রেলসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে বড় ধরনের কোনও ক্ষতি হয়নি। পানিতে তলিয়ে গেলে তখন রেললাইনের কিছু পাথর, মাটি সরে যায়। এই লাইনেও পাথর আর কিছু মাটি সরেছে মাত্র। প্রকল্প উদ্বোধনে বন্যা প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই ক্ষতি আমাদের উদ্বোধনের সময়সূচিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে এলাকাগুলো সেগুলোর কাজ এক মাসের মধ্যে শেষ করা যাবে।  

বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম তেমুহনী এলাকাসহ কক্সবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন। গত মঙ্গলবার থেকে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানিতে বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে সাতকানিয়ার তেমুহনী এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটার রেলপথের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

মফিজুর রহমান পরিদর্শন করে বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে তিন কিলোমিটার রেললাইনে পানি উঠেছে।  তবে বর্তমানে পানি নেমে গেছে, এখন চিন্তার কিছু নেই। পরিদর্শন করে দেখেছি- এর মধ্যে এক কিলোমিটারের মতো রেলসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা শিগগিরই আমরা ঠিক করে ফেলতে পারবো বলে জানান সাংবাদিকদেরকে।

তবে আকস্মিক এমন বন্যার জন্য চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন তৈরিকে দুষছেন স্থানীয়রা।  স্থানীয়দের দাবি, নবনির্মিত এই রেললাইন বর্তমানে দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রেললাইন তৈরির ফলে এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি উপজেলার মাঝামাঝি কৃত্রিম বাঁধের সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।  অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এই অঞ্চলের চারপাশ দিয়ে বয়ে চলা শঙ্খ নদী, ডলু নদী ও হাঙর নদীতে ধারণক্ষমতার বেশি পানি প্রবাহিত হওয়ায় তীর ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে করে প্লাবিত হয়েছে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী সহ অন্তত ৫টি উপজেলা। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা।

দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৩৯টি বড় সেতু এবং ১৪৫টি ছোট সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে লেভেল ক্রসিং আছে ৯৬টি। এগুলোর কারণে পানি আটকে থাকছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।