বলিউডের প্রথম সারির সুন্দরীদের কথা তুললেই উঠে আসে আনুশকা শর্মার নাম। বয়স ৩৫ হয়ে গেলেও এখনো যেন ষোড়শীই রয়ে গেছেন। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে বলিউডে অসাধারণ সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়াচ্ছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর রূপের জাদু আর অভিনয়ের কারিশমা দেখে মুগ্ধ ভক্তকূল।

আনুশকা শর্মা একটি জনপ্রিয় ফ্যাশন ম্যাগাজিনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁর উজ্জ্বল, সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের রহস্যের পেছনে রয়েছে খুব সাধারণ একটি উপকরণ। রূপচর্চায় নামীদামি ব্র্যান্ডের স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারের চেয়ে তিনি ঘরোয়া উপায়েই সৌন্দর্যবৃদ্ধিতে বিশ্বাসী। তিনি তাঁর উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বকের রহস্য উদ্‌ঘাটনের সময় বলেছিলেন, ‘সুস্থ ও লাবণ্যময় ত্বক পেতে আমি সহজ কিন্তু খুব কার্যকর একটি জিনিস ব্যবহার করি। পাকা কলা ত্বকের জন্য অত্যন্ত ভালো এবং দুর্দান্ত একটি পরিষ্কারক।’

কলা সারা বছর পাওয়া যায়, এমন একটি সুস্বাদু ও সহজলভ্য ফল। এ ছাড়া কলা বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত। এই ফল নিয়মিত খেলে তা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় শুধু বাইরে থেকে যত্ন নেওয়াই যথেষ্ট নয়। সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের পূর্বশর্ত, ভেতর থেকে পরিষ্কার ত্বক।

কলা বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ, যা রুক্ষ ত্বককে নমনীয় করে এবং ত্বকের প্রদাহজনক অবস্থাকে প্রশমিত করে। কলায় রয়েছে ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনকারী অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যৌগ সিলিকা, যা ত্বক ও চুলের কোষগুলোর বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। শুধু শুষ্ক ত্বকেই নয়, তৈলাক্ত ও সংবেদনশীল ত্বকেও কলার ব্যবহার ইতিবাচক ফলাফল দিতে সক্ষম। এ ছাড়া কলার জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজ ব্রণ আর খুশকির বিরুদ্ধে লড়াই করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে ত্বক পরিষ্কার রাখে।

চুল আর মুখমণ্ডলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কলার জুড়ি মেলা ভার। আর তাই কলা দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন এই সব ঘরোয়া প্যাক।

১. স্ক্রাবার হিসেবে চিনির বিকল্প নেই। পাকা কলার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে স্ক্রাব বানান। এরপর তা ভালো করে লাগিয়ে নিন পুরো শরীরে। কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। চিনিতে আছে আলফা হাইড্রক্সাইড অ্যাসিড, যা চামড়া কুঁচকে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।


২.পাকা কলা ও অ্যাভোকাডোর মিশ্রণ একটি দারুণ স্মুদি, যা আমাদের খাবারের তালিকায় সংযুক্ত হতে পারে। কারণ, এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে এই ফল। আবার এটি চুলের জন্যও অত্যন্ত কার্যকরী একটি প্যাক। অ্যাভোকাডো শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ চুলে প্রাণ ফিরিয়ে আনে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। এতে রয়েছে উচ্চমানের মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড, যা চুলকে ভেতর থেকে পুষ্ট করে। কলা রুক্ষ চুলকে মেরামত করে হাইড্রেটেড করে তোলে এবং চুলের ফ্রিজ হওয়া বা জট পাকিয়ে যাওয়া রোধে ভূমিকা রাখে।


৩. কলায় রয়েছে উন্নত মানের সিলিকা–জাতীয় উপাদান, যা আমাদের ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে কলা অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের একটি ভালো উৎস, যা ত্বকের ফ্রি র‍্যাডিকেলগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে। কলা, টকদই আর লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকের লাবণ্য বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে ও মুখের বলিরেখা হ্রাস করতেও সক্ষম এই প্যাক। টক দইয়ে রয়েছে ল্যাকটিক এসিড, যা ত্বকের মৃত কোষগুলোকে তুলে ফেলে ত্বক নমনীয় করে তোলে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

৪. কলা ভিটামিন এ, বি, সি এবং ই-তে পরিপূর্ণ অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল এবং এতে রয়েছে পটাশিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রন। প্রয়োজনীয় এই উপাদানগুলো স্ফীত ত্বকের ফোলা ভাব কমাতে, ব্রণের একগুঁয়ে দাগ সারিয়ে তুলতে এবং ত্বকের লালচে ভাব কমাতে সক্ষম। কলার সঙ্গে বেকিং সোডা ও হলুদের মিশ্রণ ত্বকের দাগ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। হলুদ ব্রণের ফলে ত্বকে তৈরি হওয়া গর্ত বা ক্ষত দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে এবং বেকিং সোডা ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে ও ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি কমায়।


৫. ঠোঁট হলো মুখের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ। ঠোঁটের ত্বকে কোনো তেল গ্রন্থি না থাকায় এটি দেহের সবচেয়ে শুষ্ক স্থান হিসেবে বিবেচিত। আবহাওয়ার অনিয়মের ব্যাপ্তিতে বছরের যেকোনো সময় ঠোঁট ফেটে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু শুষ্ক ত্বকেই নয়, তৈলাক্ত ত্বকেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অনেক সময় রোদে পুড়েও কালচে হয়ে পড়ে ঠোঁট। পাকা কলা ও সামান্য পরিমাণ নারকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে ব্যবহার করলে কালচে দাগ সহজেই দূর হয় এবং ঠোঁট নমনীয় করে তোলে।