মূলস্বার্থের ইস্যুতে চীন ও বাংলাদেশ পরস্পরকে সবসময় দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সম্প্রতি বাংলাদেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমি (এফএসএ) এর আমন্ত্রণে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এমন মন্তব্য করেন। বক্তৃতায় এফএসএর মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী এবং বাংলাদেশসহ অন্যান্য ৫টি দেশের কূটনীতিক প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সিআরআই বাংলার (১৯ জুলাইয়ের) প্রতিবেদনে বলা হয়ঃ নিজ বক্তব্যে ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক সম্পর্ক, তুলনীয় জাতীয় অবস্থা, সংযুক্ত জাতীয় স্বপ্ন রয়েছে। মূল স্বার্থের ইস্যুতে দুই দেশ সবসময় একে অপরকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক ব্যবহারিক সহযোগিতা দুই দেশের জনগণকে উপকৃত করেছে। বাংলাদেশী কিশোরী আলিফাচিনের চিঠির জবাবে প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের চিঠির উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন এর মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব নতুন অর্থ পেয়েছে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, এক শতকে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চীন। শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন, চীনা বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আধুনিকীকরণ অনুসরণ করছে চীন। বিশ্ব উন্নয়ন উদ্যোগ, বিশ্ব নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং বিশ্ব সভ্যতা উদ্যোগ প্রস্তাব করেছে চীন।

চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত লোকদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। চীন ও বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নে অবদান রাখার প্রচেষ্টায় যোগ দিয়েছে। ভবিষ্যতে, দুই দেশের উচিত শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করা এবং চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার কৌশলগত সম্পর্কের নতুন উচ্চতা অর্জন করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়ঃ বক্তৃতা শেষে, রাষ্ট্রদূত চীন-আমেরিকা সম্পর্ক, চীন-ভারত সম্পর্ক, তথাকথিত “ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল”, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতা করেন।