দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় কিছু কারণও কাজ করছে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি অভিযোগ করেন, একশ্রেণির ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে এক কোটি পরিবার কার্ডধারীর কাছে চলতি মাসের পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
টিপু মুনশি বলেন, ‘বাজারে পণ্যের দাম যা বাড়ছে, তার আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপট আছে। কিছু ব্যবসায়ী সুযোগও নিচ্ছেন। তাঁদের সামাল দিতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’
কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে সরকার তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা সত্যি কথা, কোথাও কোথাও কেউ কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। আমরা ভোক্তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। আমরা জানি, বাজারে কোথায় কোন পণ্যের দাম বাড়ছে।’
টিসিবির চিনির দাম ১০ টাকা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে সয়াবিন তেল, চিনি, ডাল টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি করি, এর সবকিছুই আমদানিনির্ভর। গত ১৫ দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম আবার বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করি, আন্তর্জাতিক বাজারের দাম যেন আমাদের বাজারে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়।’
অনুষ্ঠানে টিসিবির পরিবার কার্ড ডিজিটালাইজেশন করার পরিকল্পনা সম্পর্কে টিসিবির চেয়ারম্যান মো. আরিফুল হাসান বলেন, ‘আমরা সরকারি একটা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছি। সব প্রক্রিয়া মেনে কাজটি করতে একটু সময় লাগছে। তবে আশা করছি, আগামী ৬ মাসের মধ্যে পুরোটা না হলেও ৭৫ শতাংশ কার্ড ডিজিটালাইজ করা হবে এবং একই সঙ্গে পণ্য প্রাপ্তির বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।’
সরকারি সংস্থা টিসিবি প্রতি মাসে একবার করে দেশের এক কোটি পরিবারের মধ্যে পণ্য বিক্রি করে থাকে। এসব পণ্যের মধ্যে চিনির দাম নতুন করে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এত দিন এই চিনির দাম ছিল প্রতি কেজি ৬০ টাকা। টিসিবির পরিবার কার্ডধারীদের জন্য চিনির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কেজিপ্রতি ৭০ টাকা।
টিসিবি জানিয়েছে, এ দফায় টিসিবি প্রত্যেক কার্ডধারীকে এক কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল ও দুই লিটার সয়াবিন তেল দেবে। মসুর ডাল কেজিপ্রতি ৭০ টাকা ও সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১১০ টাকা দামে বিক্রি করছে টিসিবি।
বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে টিসিবি গত ডিসেম্বরে মসুর ডাল ও চিনির দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা করে বাড়িয়েছিল। তখন প্রতি কেজি ডালের দাম ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়, আর ৫৫ টাকার চিনির দাম হয় ৬০ টাকা। খোলাবাজারে অবশ্য চিনির দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ঢাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে না।
এ দফায় টিসিবির কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সারা দেশে পরিবেশকদের দোকান থেকে পণ্য নিতে পারবেন পরিবার কার্ডধারীরা। পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।