‘টাকার অভাবে’ সাফজয়ী মেয়েদের মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অলিম্পিক বাছাইয়ে পাঠাতে পারেনি কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ফুটবল ফেডারেশন। সে নিয়ে চারিদিকে বেশ সমালোচনাও হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা যেটা বলেছে, তা আরও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে! দেশের জনগন এবং মিডিয়ার পাশাপাশি এই অজুহাত মানতে নারাজ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাফুফে ইচ্ছাকৃতভাবে মেয়েদের বাছাই খেলতে পাঠায়নি এবং এজন্য তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কেন তারা এই কাজটি করলেন, সেটা আমার বোধগম্য নয়। আমি সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করব, বিষয়টি খতিয়ে দেখার। কেন এরকম অন্যায় একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে মেয়েদের এতবড় একটা সুযোগ হাতছাড়া হতে দিলেন। এটা করে মেয়েদের তারা বঞ্চিত করলেন। আজকে ভারত কিন্তু কোয়ালিফাই করেছে। আমরা তো ভারতের চেয়ে ভালো দল ছিলাম। আমাদেরও একটা সম্ভাবনা ছিল। যারা এই সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করল…..।’
শেষ মুহূর্তে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই টাকার অভাব দেখিয়ে ‘দল পাঠানো যাচ্ছে না’ ঘোষণা দেওয়ায় ‘উদ্দেশ্য’ দেখছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ‘এটা তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে করেছে। কেন এত তড়িঘড়ি করে চিঠিটি দিলেন, কেন তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন সময়ের আগে? এ ধরনের টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে নিশ্চয় তারা ৩ মাস বা ৬ মাস আগে জানতে পেরেছে। তারা এত দিন পরে জানালেন কেন? তারা যে অলিম্পিক বাছাইয়ে যেতে পারল না এটার মধ্যে কিছু একটা আছে। আমাদের পক্ষ থেকেও বিষয়টা খতিয়ে দেখছি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও বিষয়টি অবগত করছি।’
দ্রুত সময়রে মধ্যে বাফুফে থেকে চিঠি পেয়েও অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, এমনটাই জানালেন মন্ত্রী, ‘যে কোনো সংস্থার কাছে টাকা চাইতে হলে একটু সময় লাগে, সময় দিতে হবে তাদের। আমাদের কাছে টাকা চাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ে এই অর্থ ছাড়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চিঠি লিখেছি। সেটির জবাব আসার আগেই তারা এই ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। এবং সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমি মনে করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি নারী খেলোয়াড়দের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন, তাকেও অবগত করা যেত।’
তিনি বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অবহিত করব। আমার মনে হয় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে দলটাকে পাঠায়নি। কেন তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কাজটি করে আমাদের ভাবমূর্তি সংকটে ফেললেন সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীদের খেলায় অনেক পৃষ্ঠপোষকতা করেন, সেটা ফুটবল হোক কিংবা ক্রিকেট। সেই নারীরা যখন অল্প কিছু টাকার জন্য খেলতে যেতে পারেনি, এটার পেছনে নিশ্চয় অন্য কিছু আছে। আমি অবশ্যই বিষয়টা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অবহিত করব।’
প্রধানমন্ত্রীকে জড়ানোর বিষয়েও ক্ষুব্ধ জাহিদ হাসান, ‘ প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে এত ভালোবাসেন। তিনি নিজে খেলাধুলার খবর নেন সব সময়। নিজে টেলিভিশনে খেলা দেখেন। যখন সময় পান মাঠে চলে আসেন। এগুলো উনি জন্মগতভাবে পেয়েছেন। ওনার পরিবার খেলাধুলার জগতের মানুষ। তাকে জড়িয়ে এমন কথা বলা (নাটক করা) সেটি আসলে আমি কোনোভাবেই মানতে পারছি না। আমি মনে করি এসব কথা বলা থেকে এড়িয়ে চলা উচিত তার। মানুষ আমাদের কাছ থেকে শিখবে। আমরা এমন কোনো কথা বলব না যেটা শুনে মানুষ বিভ্রান্ত হবে।’