গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন,ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে সরকার শতভাগ সফল। সরকারি সেবাগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। সরকার এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের পর স্মার্ট বাংলাদেশ নামে নতুন একটি রূপকল্পের কথা সামনে আনছে। করোনা মহামারিতে পুরো ব্যবস্থা অনলাইনে চালু ছিল। স্মার্ট বাংলাদেশ নিয়ে তিনি বলেন, সেখানে চারটি বিষয় গুরুত্ব পাবে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, মাইক্রোচিপের নকশা করা ও উৎপাদন এবং সাইবার নিরাপত্তা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে অনেক কাজ হয়েছে। সরকারি সেবা কম্পিউটারভিত্তিক হয়েছে, আর্থিক লেনদেন এখন খুবই সহজ, ইন্টারনেট ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সার্বিকভাবে মানুষের জীবনযাত্রাও আগের চেয়ে সহজ হয়েছে।
কিন্তু কেউ কেউ বলছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে সরকার যেসব সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা বলেছিল, তা অনেকাংশেই পূরণ হয়নি। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্নীতি কমানো, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি কম। ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ও সমপর্যায়ের অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। যেমন ইন্টারনেটের গতি বাংলাদেশে কম। ডিজিটাল সেবা নিতে যে স্মার্টফোন দরকার, সেই স্মার্টফোন ব্যবহারের হার ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের চেয়েও কম এ দেশে।
আজ ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘প্রগতিশীল প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নতি।’ যদিও ডিজিটালের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের বৈষম্য অত্যন্ত প্রকট। করোনাকালে শহরের শিশুরা ঠিকই অনলাইনে ক্লাস করেছে। গ্রামের শিশুরা বঞ্চিত হয়েছে।
রূপকল্প ও লক্ষ্য
২০০৮ সালে ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প অনুযায়ী জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি নীতিমালা করা হয়, যেখানে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে। এই নীতিমালা সর্বশেষ ২০১৮ সালের হালনাগাদ করা হয়। সেখানে ৩৩৩টির মতো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছিল।নীতিমালাটিতে (২০১৮) বলা হয়েছিল, ২০২১ সালের মধ্যে সব সরকারি সেবা যেকোনো স্থান থেকে সহজে, স্বচ্ছভাবে, কম খরচে ও কম সময়ে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি সেবা কম্পিউটারভিত্তিক হয়েছে, ডিজিটাল হয়নি। যেমন জন্মনিবন্ধনের ফরম এখন অনলাইনে পাওয়া যায়। কিন্তু সেটি প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে হয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে মানুষকে অন্তত তিনবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাঁদের আছে, তাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে নতুন করে আঙুলের ছাপ দেওয়ার প্রয়োজন থাকার কথা নয়। কিন্তু আঙুলের ছাপ ঠিকই দিতে হয়।বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ব্যবসা সহজ করতে এক দরজায় সেবা বা ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার ওএসএস চালু করেছে। যদিও তা খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মানবসম্পদ বেড়েছে, তবে তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে।বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি রাসেল টি আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে গঠনে সামগ্রিক উন্নয়ন হয়েছে। আমরা সবকিছু টাচ (কিছু কিছু কাজ করা) করেছি। কিন্তু আত্মতুষ্টিতে ভোগা যাবে না। তিনি বলেন, ‘সমপর্যায়ের দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে আমরা আরও কী করতে পারতাম, কোথায় যেতে পারতাম, তা ভাবা প্রয়োজন।’