Sun. Nov 27th, 2022
aj hasur jonmo din

১৯৪৭ এ দেশ ভাগের উত্তাল সময়ে ২৮ সেপ্টেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিব ও ফজিলাতুন্নেছার কোল আলো করে জন্মগ্রহন করে শেখ হাসিনা, সকলের আদরের হাসু। শেখ মুজিবের জ্যেষ্ঠ এই সন্তান ঢাকাতেই থাকতেন বাবার সঙ্গে। রাজনৈতিক আবহাওয়ায় বেড়ে উঠা এই নারী ছাত্র জীবন থেকেই যুক্ত ছিলেন রাজনীতির সঙ্গে। পিতার সংগ্রামমুখি নেতৃতের প্রতিটি অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে যেন শিখেছেলেন নেতৃত্ব আর আত্ব স্বর্গের মহা মন্ত্র ।
১৯৭৫ সালে আকসিক ঝড়ে ছিন্নবিন্ন হয়ে যায় তার পরিবার। স্বজন হারা হাসিনা তখন নতুন যুদ্ধের সম্মুখিন। এমন পরিস্তিতিতে ৬ বছর নির্বাসিত থেকে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেন তিনি । বিপন্ন সেই সময় তিনি পিতার ঐশর্য্যময় রাজনৈতির সিড়িতে পা রেখে শুরু করেন নতুন অধ্যায়ের ।
তিনি ফিরেছেলেন ইতহাসের চেলেঞ্জ নিতে, এসেছিলেন পিতার রক্তের ঋন পরিশোধে । ক্ষমতার মোহ পেছনে ফেলে বৈরি পরিস্তিতেও মাত্র ৩৪ বছর বয়সে টানা ৪ দশক ধরে দায়িত্ব বয়ে চলছেন আওয়ামীলিগ প্রাধান হিসেবে । গঠনাক্রমে বেচে যাওয়া এক মহা কাব্যের ট্রাজেডির নায়িকা হতে হয়েছে শেখ মুজিবের কন্যাকে ।
অমসৃন চলার পথে বাধা এসেছে অসংখ্যবার । কাটাবিছানো পথ দিয়েই চলতে হয় তাকে দিনের পর দিন। এখন পযন্ত বিশ বারের প্রাণ নাশের চেষ্টার পরও সকল ষড়যন্ত্রকে পেছনে ফেলে দেশের জন্য অবিরাম কাজ করে চলেছেন এই আপোষহীন নেত্রী ।
তিনি চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে করোনাকালেও দেশের প্রবৃদ্ধি এশিয়ায় প্রায় সব দেশের উপরে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, আইসিটি ও এসএমই খাতে এসেছে ব্যাপক সাফল্য।
যোগ্যতা আর পরিশ্রমে নিজের করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অনেক সম্মাননা ও পদক। এ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে দেওয়া আন্তর্জাতিক পুরস্কারের সংখ্যাও কম নয়। টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সফলতা জন্য ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কার দেয় গেøাবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন। একই মাসে শেখ হাসিনাকে ড.কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পদক দেওয়া হয়। এর আগে বিশ্বের কয়েকটি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র সমুন্নত ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্যে প্রধানমন্ত্রীকে পদক দেয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে দায়িত্বশীল নীতি ও মানবিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ও ২০১৮ সালে স্পেশাল ডিসটিংশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ দেয়া হয়।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নদর্শী এই নেতা ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন এবং প্রথমে ১৯৯৬ সালে, ২০০৮ সালে দ্বিতীয়, ২০১৪ সালে তৃতীয় ও ২০১৮ সালে চতুর্থ বারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে সক্ষম হন।
বিশে^র সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা নারী রাজনীতির পালকও এখন তার মুকুটে । এক যুগের সাহসিকতায় উন্নয়নের বিশ্ময় এখন পুরো বাংলাদেশ । বৈশি^ক সমস্যা থেকে শোষিত নিপিড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামেও অগ্রনি শেখ হাসিনা এখন বিশ^ নেতাদের কাতারে। আর্ত মানবতার সেবাই তাকে অসীম মমতা,মানবিকতার মহানায়ক বানিয়েছে ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দক্ষতা ও বিচক্ষণতা দিয়ে এখন বিশ্বমানের নেতার পর্যায়ে নিজের স্থান করে নিয়েছেন। শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্যে অন্তপ্রাণ শেখ হাসিনা লেখালেখিও করেন। তার লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি। প্রকাশিত অন্যতম বইগুলো হচ্ছে: ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘সাদা কালো’, ‘ওরা টোকাই কেন’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘দারিদ্র্য দূরীকরণ’, ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন’, ‘বিপন্ন গণতন্ত্র’, ‘সহেনা মানবতার অবমাননা’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ ইত্যাদি।
অসীম ধৈর্য্য নিয়ে নিষ্ঠুর বেদনা পাথর চাপার কষ্ট বয়ে চলেই মানুষের সমৃদ্ধ জীবন গড়ার প্রত্যাশায় নিজেকে উৎস্বর্গ করা শেখ হাসিনা বহু বাধার প্রাচীর টপকে আজ ৭৬ বছরে পা রাখলেন । ঝড়ের খেয়ার মাঝি হয়েই নন্দিত নেত্রী আজ সমহিমায় বাংলার কোটি মানুষের ভালোবাসার আসনে উদিষ্ঠ । দেশের অগ্রযাত্রায় সম্মুখে থেকে তিনি আমৃত্যু নেতৃত্ব দেবেন বলেই আশা দেশবাসীর ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *