Tue. May 11th, 2021
রঙ্গিন সুতোয় গল্প বোনা মানতাশা ও মেহেরীন।

বিশ্বে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে এশিয়ার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। নারী ক্ষমতায়নের রূপকার হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিশ্বব্যাপী সম্মানিত। তার জন্ম মাস সেপ্টেম্বরে হারনেট নিউজ “WOMEN LEADS, Inspiration HPM” নামক কলামের মাধ্যমে এমন সব নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চায় যারা এই অভূতপূর্ব ক্ষমতায়ন এবং অগ্রগতিতে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করে চলছে । তার ধারাবাহিকতায় HerNet News এর ” পাতায় এবারের আলোচনাপর্বে অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন ব্যাবসায়ী মানতাশা আহমেদ ও মেহরীন আহমেদ, কাপড়,সুতো আর নকশায় যাদের আধিপত্য|

রঙ্গিন সুতোয় গল্প বোনা মানতাশা ও মেহেরীন।
মায়ের প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা ঘরোয়া শিল্পকে নতুন আঙ্গিকে রূপ দেন এই দুই সহোদরা। গড়ে তোলেন বুটিক শপ। নিজেদের মেধা, মনন আর সৃজনশীলতায় কুড়িয়ে নেন অসংখ্য ক্রেতার প্রশংসাও।
গুণগত মান, রং সমন্বয়, আধুনিকতার ছোঁয়া এবং কারুকাজে আস্থার এক নাম Reela’s।

Mantasha Ahmed at an event of promoting Bangladeshi heritage with esteem Political and corporate guests

ছোট বেলা থেকেই ফ্যাশন সচেতন মেহেরীনের,উদ্যোক্তা মায়ের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা। স্বভাবতই বেশ ঝোঁক সৃষ্টি হয়। সেই থেকেই গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলা এবং ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে আত্নপ্রকাশ করা এমনটাই জানাচ্ছিলেন মেহেরীন নিজেই।
এদিকে মাকে দেখে মানতাশাও সেই বয়স থেকেই একটু একটু করেই হাল ধরেছিলেন। স্বপ্ন দেখেছিলেন ঘরোয়া বুটিক শিল্পকে বৃহৎ পরিসরে পরিচয় করিয়ে দেবেন যার ফলশ্রুতিতে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এবং বনানীতে গড়ে তুলেছেন Reela’s এর দুটি শাখা।

বৈষম্য এবং প্রতিকূলতার কথাগুলো জানতে চাইলে মানতাশা প্রথমেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেই বলেন উদ্যোক্তা হওয়ার পথে সেই নব্বইয়ের দশকে মাকে যতটা বেগ এবং প্রতিকূলতাকে জয় করতে হয়েছিল তুলনামূলকভাবে তাদের রাস্তাটা মসৃণই ছিল। তবে কর্মক্ষেত্র এবং পারিপার্শ্বিকভাবে প্রতিকূলতায় তো পরতে হয়েছেই।
প্রতিষ্ঠিত পরিবারের ছায়ায় বেড়ে উঠেও নিজেদের যোগ্যতা আর পরিশ্রমের জোরে সফলতার দোরগোড়ায় পৌছেছেন দুই উদ্যোক্তা। নিজেদের কাজ দিয়ে অর্জন করেছেন রাজনৈতিক ব‍্যাক্তিত্বসহ অসংখ্য ক্রেতার ভালোবাসা।

Mehreen Ahmed & actor Ananta Jalil & Borsha wearing Reela’s collection

নারী ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করার পথকে সুগম করে দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। (Woman Empowerment) এ বাংলাদেশকে র‍োল মডেল হিসেবে দাড়ঁ করিয়ে, দিয়েছিলেন নিজের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের পরিচয় এমনটাই বেশ গর্বের স্বরে বলছিলেন মানতাশা।

বেশ ইতিবাচক মানসিকতার অধিকারী মেহেরীন হারনেটকে জানান ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতির সাথেও খাপ খাইয়েও ব্যবসাকে গতিশীল রাখতে পেরেছেন। অনলাইন নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় সময়,অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হচ্ছে।এতে বেশ খুশীই তিনি।সাথে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও দিয়েছেন এমন প্লাটফর্মে ব্যবসার গতি সচল রাখতে পেরেছেন বলে। আরও যুক্ত করেন পরিবারকে এবং সন্তানদের নিয়ে সময় কাটাতে পারছেন যেটা স্বাভাবিক সময়ে কর্মব্যস্ততায় হয়ে ওঠেনা।

Bridal Wear, Party Wear এর পাশাপাশি Reela’s এর বিশেষত্ব হল এরা দেশিয় কাপড় নিয়েও কাজ করছেন এমনটাই বলছিলেন মানতাশা।

Mantasha Ahmed getting recognition for promoting Bangladeshi heritage , hand-loom & craft

তরুণ উদ্যোক্তাদেরকে উদ্দেশ্যে তারা বলেন যারা ইতিমধ্যেই শুরু করেছে বা করতে চায় বা হালটা যেন না ছেড়ে দিয়ে এগিয়ে যায়।অনেক বাধা-বিপত্তি এবং প্রতিকূলতা আসবে সেগুলো মোকাবেলা করার মনোভাবটা যাতে নিজেদের মধ্যে তৈরি করে নেয়।

হারনেটকে নিয়ে মানতাশা এবং মেহেরীন দুজনেরই প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। এর অগ্রযাত্রার কথা বলতে গিয়ে তারা উল্লেখ করেন নারীকল্যাণ নিয়ে কাজ করবে যুগোপযোগী এবং চমৎকার একটি প্লাটফর্ম হারনেট। অল্প সময়ে মাত্রা ছাড়িয়ে সৃষ্টি করেছে বিশাল এক পরিবার। বৈশ্বিকভাবেও এর পদচারণা হোক এবং হারনেটের হাত ধরেই বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়নের গল্পগুলো পৌঁছে যাক অনন্য মাত্রায় এরকমটাই প্রত্যাশা।

Fashion Designer Mehreen Ahmed at an international Fashion show

হারনেটের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করার গুরুদায়িত্ব যদি অর্পিত হয় উন্নয়নের কোন দিকটিতে ফোকাস করবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে দুই সফল উদ্যোক্তা জানান, প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ জনশক্তি তৈরীর দায়ভার একত্রিত ভাবে নিবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন।

হারনেটের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানকে নিয়ে শুরুতেই মানতাশা বলেন হারনেটের মত অসাধারণ প্লাটফর্ম যিনি প্রতিষ্ঠা করে এ জায়গায় নিয়ে এসেছেন অবশ্যই তিনি প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার। এরই ধারাবাহিকতায় মেহেরীন বলছিলেন শুধু ঢাকা নয় তৃণমূল পর্যায়েও বহু সফলতার গল্প তৈরি হয়।প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো থেকেও যেন আড়ালে চাপা পড়ে যাওয়া গল্পগুলো হারনেটের মাধ্যমে জনসম্মুখে আসে। নারী কল্যানে অবদান রাখতে ভবিষ্যতে হারনেটের সাথে একত্রিত হয়ে প্রজেক্ট করার প্রত্যাশা মানতাশা আহমেদ ও মেহরীন আহমেদ দুইজনই ব্যাক্ত করেছেন ।

Founder of HerNet TV , Alisha Pradhan with Mantasha & Mehreen Ahmed at events

হারনেটের কুইক আনসার সেগমেন্ট এ উঠে আসে দুই অতিথির অজানা সব কথা।

মেহেরীন এর Strength তার ইতিবাচকতা এবং এই ইতিবাচক মনোভাবের ফলেই Weakness তাকে গ্রাস করতে পারেনা।এদিকে মানতাশার মনোবল তার পরিবার আর পরিবারকে ঘিরেই দূর্বলতা।

নির্বোধ মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে গেলে বেশ রেগে যান মানতাশা আর এদিকে বেশ হাসিখুশি এবং শান্ত প্রকৃতির মেহেরীন। হাল ছেড়ে না দেয়া এবং বুদ্ধিমান মানুষ খুব পছন্দ করেন মানতাশা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা একটি বড় চারিত্রিক গুণ বলে দাবি করেন মেহেরীন এবং প্রতিটি ব্যাক্তির এই বৈশিষ্ট্য থাকা উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।

মতের মিল – অমিল, খুনসুটি এবং পৃথক দুটি মানুষ হয়েও এই সফল দুই উদ্যোক্তা সৃষ্টিশীলতাকে বেধেঁ রেখেছেন একই সুতোর বন্ধনে। নাড়ির টানে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী বুটিক শিল্পকে।

By HerNet

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *