সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছে বলে স্বীকার করেছেন তার মা।
ঊর্মির মা নাসরিন জাহান ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার হাজী কাশেম আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজে গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
মেয়ের সাময়িক বরখাস্তের খবর প্রকাশের পর গতকাল সোমবার রাতে নাসরিন জাহান গণমাধ্যমকে বলেন, ঊর্মি চাকরির বিধি লঙ্ঘন করছে। এটা তার ঠিক হয়নি।
এটা একটা বড় অপরাধ। সব জায়গাতেই চাকরিবিধি মানতে হবে। ঊর্মি ছাত্রজীবনে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না জানিয়ে তার মা বলেন, আমার মেয়ে কোনো ছাত্ররাজনীতিতে জড়িত ছিল না। তবে ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল। আমার সন্তানরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। আমরা খুব স্বাভাবিক জীবনযাপন করি।
তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের নসিবপুর গ্রামের মো. ইসমাইল হোসেনের মেয়ে। তার বাবা ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা শহীদ স্মৃতি কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত শনিবার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি। সেখানে তিনি লিখেছেন, সাংবিধানিক ভিত্তিহীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রিসেট বাটনে পুশ করা হয়েছে। অতীত মুছে গেছে। রিসেট বাটনে ক্লিক করে দেশের সব অতীত ইতিহাস মুছে ফেলেছেন তিনি। এতই সহজ। কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে আপনার, মহাশয়।
এরপর তার এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ঊর্মি। এ ঘটনায় গত রোববার ঊর্মিকে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। এরপর সোমবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এদিকে ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদসহ অন্য শহীদদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগ এনে আজ মঙ্গলবার তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মানহানির মামলার আবেদন হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বাদী হয়ে এ আবেদন করেন। বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড শেষে এ বিষয়ে আদেশ পরে হবে বলে জানান আদালত। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. খাদেমুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।