Fri. May 14th, 2021
কাপাসিয়া মডেল এখন বিশ্বমঞ্চে

‘গর্ভবতীর আয়না’ নামের সফটওয়্যার এবং ‘গর্ভবতীর গয়না’ নামের স্বাস্থ্যনির্দেশিকার সমন্বয়ে ‘মাতৃমৃত্যুমুক্ত কাপাসিয়া’ কার্যক্রম চালাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় তিন বছরে মাতৃমৃত্যু শূন্যে নেমে এসেছে। মাতৃমৃত্যু কমাতে কাপাসিয়া মডেলকে আদর্শ ধরে ১০০টি উপজেলায় তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশ্বমঞ্চেও গুরুত্ব পাচ্ছে এই মডেল। জনসংখ্যা ও প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সর্বোত্তম অনুশীলন (বেস্ট প্র্যাকটিস) হিসেবে এই মডেল জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) মাধ্যমে বিশ্বের ২৭টি দেশে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

মাতৃমৃত্যু কমাতে কাপাসিয়া মডেল বাস্তবায়নে গর্ভবতী মায়েদের ঝুঁকি, বয়সসহ ২৭ ধরনের তথ্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে তথ্যভান্ডার (ডেটাবেইস সফটওয়্যার), যা ‘গর্ভবতীর আয়না’ নামে পরিচিত। এর পাশাপাশি আছে ‘গর্ভবতীর গয়না’ নামের একটি স্বাস্থ্যনির্দেশিকা। ‘গর্ভবতীর আয়না’ ও ‘গর্ভবতীর গয়না’র সমন্বয়ে চলছে পুরো কার্যক্রম।

২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে মাতৃমৃত্যুমুক্ত কাপাসিয়া গড়ার কার্যক্রম চালাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তাদের তথ্য বলছে, এই কার্যক্রম শুরুর আগের বছর ২০১৭ সালে কাপাসিয়ায় ৮ জন গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হয়েছিল। ওই বছর গর্ভবতী মা ছিলেন ৬ হাজার ৭০০। কর্মসূচি চালুর বছর ২০১৮ সালে মাতৃমৃত্যু নেমে আসে ৪ জনে। ওই বছর গর্ভবতী ছিলেন ৬ হাজার ৩০০ জন। ২০১৯ সালে একজন গর্ভবতী মা মারা যান। সে বছর গর্ভবতী মা ছিলেন ৬ হাজার ৩৫০ জন। আর ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হয়নি। গত বছর গর্ভবতী ছিলেন সাড়ে ৬ হাজার।

মাতৃমৃত্যুমুক্ত কাপাসিয়া কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন স্থানীয় সাংসদ সিমিন হোসেন। তিনি বলেন, সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকে প্রতিটি গ্রামে গিয়ে গর্ভবতী মায়েদের সঙ্গে কথা বলতাম। গর্ভবতী মায়েরা অনেক কিছুই জানত না, স্বাস্থ্যসেবাও ঠিকমতো পেত না। সফটওয়্যার তৈরি ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরুর পর পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে।

By HerNet

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *