গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বড়হর গ্রামে দেড় যুগ ধরে চলা রেশম উৎপাদন প্রকল্পটি তুঁতপাতার সংকটে ভুগছে। জায়গার অভাবে লাগানো যাচ্ছে না তুঁতগাছ। ইতিমধ্যে অনেক গাছ মারা গেছে। এই গাছের পাতাই রেশম পোকার খাবার। তুঁতপাতার অভাবে কমে এসেছে রেশম গুটি উৎপাদনও।

রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কাপাসিয়া উপজেলা রেশম সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জহুরুল জানিয়েছেন ,ফলে দেড় যুগ পুরোনো রেশম চাষ প্রকল্পটিতে তুঁতগাছের উৎপাদন বাড়াতে পারলে রেশম গুটির উৎপাদন বেড়ে যেত, কিন্তু গাছ লাগানোর মতো জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। রেশম গুটির মূল্য আরও বাড়াতে পারলে উদ্যোক্তারা খুশি হতেন। এ ছাড়া তুঁতগাছের আশপাশের জমির মালিকেরা যেসব গাছ লাগিয়েছেন, সেগুলো বড় হলে তুঁতগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।পাশাপাশি রেশম গুটির দাম আরও বাড়ানোর দরকার বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
রেশম চাষের উদ্যোক্তারা জানান, ২০০৪ সালের শুরুতে বড়হর গ্রামের শিল্পী রানী, রিতা রানী ও জায়েদা প্রথম এই চাষ শুরু করেন। তাঁদের সফলতা দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে রেশম চাষে যুক্ত হন আরও অনেকে।রেশম গুটি দুই ক্যাটাগরিতে ৩৫০ ও ৪০০ টাকা কেজি দরে কৃষকের কাছ থেকে কিনে নেয় রেশম উন্নয়ন বোর্ড। গুটি উৎপাদনের জন্য কৃষকদের বিনা মূল্যে রেশম পোকার ডিম সরবরাহ করা হয় বোর্ড থেকে। এখানে উৎপাদিত রেশম গুটিগুলো চলে যায় দেশের বেনারসি পল্লিগুলোতে। এগুলো থেকে তৈরি হয় দামি বস্ত্র।
বর্তমান দামে রেশম গুটি উৎপাদন মোটেও পোষায় না জানিয়ে রেশমচাষি শ্যামলী রানী বলেন, ‘১ কেজি রেশম গুটি ৩৫০ টাকা মূল্যে বিক্রি করলে পোষায় না। প্রতি কেজি অন্তত ৫০০ টাকা হলে ভালো আয় হতো।

বড়হর গ্রামের রেশমচাষি সীমা রানী ও বীণা রানী জানান, আগে চার মাস পরপর ২৫ থেকে ৩০ কেজি রেশম গুটি তোলা যেত। বর্তমানে পোকার খাদ্যসংকটের কারণে ১৫ থেকে ২০ কেজি উৎপাদন করা যাচ্ছে। পাতা আরও বেশি হলে ৪০ কেজির বেশি উৎপাদন করা যেত। এতে আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাও পাওয়া যেত এই শিল্পে।