In this photo provided by the Ukrainian Presidential Press Office, Ukrainian President Volodymyr Zelenskyy, left, greets Japan's Foreign Minister Yoko Kamikawa in Kyiv, Ukraine, Sunday, Jan. 7, 2024. (Ukrainian Presidential Press Office via AP)

রাশিয়ার লাগাতার হামলার প্রায় দুই বছরের মাথায় ইউক্রেন যখন পশ্চিমা বিশ্বের সহায়তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছে, ঠিক তখনই অঘোষিত সফরে কিয়েভে গেলেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োকো কামিকাওয়া। রবিবার তিনি ইউক্রেনের প্রতি জাপানের জোরালো সমর্থন জানালেন। আরো সামরিক সহায়তার পাশাপাশি ইউক্রেনের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন তরাম্বিত করতে তিনি ফেব্রুয়ারি মাসে জাপানে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ঘোষণা করলেন।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কামিকাওয়া বলেন, জাপান ইউক্রেনকে সমর্থন করে যাবে, যাতে সে দেশে শান্তি ফিরতে পারে।

রুশ হামলার সাইরেনের মাঝে এক বাংকারে দুই মন্ত্রীকে বক্তব্য রাখতে হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে রাজনৈতিক জটিলতার কারণে ইউক্রেনের জন্য সহায়তা আপাতত কিছুটা থমকে গেছে। জাপান সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে না পারলেও সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন কোটি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের ড্রোন শনাক্তকারী প্রণালি সরবরাহের ঘোষণা করেন।

এ ছাড়া কামিকাওয়া বিশেষ করে নববর্ষ বরনের দিনে রাশিয়ার জোরালো হামলার নিন্দা করেন।

তিনি ইউক্রেনের বুচা ও ইরপিন শহর পরিদর্শন করেন। বুচায় গণহত্যার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হয়। 

জাপানি মন্ত্রী ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদোমির জেলেনস্কির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। জেলেনস্কি জাপানের সমর্থন এবং সামরিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শ্যামিহাল প্রায় ১০০ কোটি ডলার অঙ্কের মানবিক সহায়তা প্রকল্প ও পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তের জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুলেবা গত বছর তাঁর দেশকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সরবরাহের সিদ্ধান্তের জন্য জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। কুলেবা বলেন, রাশিয়া ইউক্রেন দখল করতে না পেরে ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ইউক্রেনের শহরগুলোর ওপর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলছে।

এদিকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার হামলা আরো জোরালো হচ্ছে। শনিবার সেখানকার ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত অংশে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছে বলে সে দেশ জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিরীহ মানুষের ওপর লাগাতার হামলার জন্য রাশিয়ার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন বিশাল আকারে বাড়ানোর ওপর জোর দেন।