সোমবার চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে
একথা বলেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, কত হাঁক ডাক! সরকার পতনের কত দিবাস্বপ্ন, সব খতম। এই খেলা শেষ হয়ে গেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ, সোহরাওয়ার্দীর আওয়ামী লীগ, মাওলানা ভাসানীর আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। সামনে সেমিফাইনাল, তারপর জাতীয় নির্বাচনে ফাইনাল খেলা হবে। বাংলাদেশের আন্দোলনে যারা হারে, নির্বাচনে তারা বিজয়ী হতে পারে না।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আজ বেলা ১১টার দিকে শহরের টাউন ফুটবল মাঠে এই সম্মেলন শুরু হয়। টানা সাত বছর পর আয়োজিত এবারের সম্মেলনকে ঘিরে অনেক লোকসমাগম হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দারের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত নেতা-কর্মীসহ নৌকার আদলে তৈরি অনুষ্ঠানমঞ্চে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রধান বক্তা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আমিরুল আলম, সংসদ সদস্য পারভীন জামান ও সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলি আজগার, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বক্তব্য দেন।
বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কত যে হাঁকডাক বিজয় মিছিল করবে ১০ তারিখ! ১০ তারিখ তো চলে গেল। আতঙ্ক সৃষ্টি করা হলো। বিআরটিসির বাস পোড়ানো হলো। শত শত চালের বস্তা, সঙ্গে বিস্ফোরক পাওয়া গেল নয়াপল্টনের কার্যালয়ে। শখ জেগেছিল সবকিছু অচল করে দেওয়ার, এখন তারা নিজেরাই অচল। ১০ দফা দাবিতে নতুন কিছু দেখলাম না, সব পুরোনো কথা।’
দেশ-বিদেশের চলমান সংকটের কথা স্বীকার করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মানুষ কষ্টে আছে। জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধ সারা বিশ্বের সমস্যা। আমাদের রিজার্ভ এখন আছে পাঁচ মাসের আমদানি করার মতো, যেখানে তিন মাস থাকলেই স্বাভাবিক ধরা হয়। এ নিয়ে এত সমালোচনা, বিদ্যুৎ নিয়ে এত কথা? সারা দেশে বিদ্যুৎ তো শেখ হাসিনা দিলেন। সেই বিদ্যুৎ নিয়ে যারা কথা বলেন, প্রতিদিন বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা হয়েছে, কোথাও লোডশেডিং হয়েছে? এই সংকটেও আমরা বিদ্যুৎ ঠিক রেখেছি। জ্বালানি তেল, ভোজ্য তেল, গম, চাল, ভুট্টা বেশি দামে কিনেছি। স্বল্প মূল্যে দিয়েছি।’
জাতীয় সংসদ থেকে বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি না থাকলে কি সংসদ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে? কথা বলার লোক থাকবে না? কত বড় ভুল করেছে বিএনপি।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অর্থ পাচারের দায়ে দণ্ডিত তারেক রহমানের ১০ তারিখে আসার কথা ছিল। ২০০৭ সালে চলে গেলেন মুচলেকা দিয়ে, আর ফিরবেন না বলে। রাজনীতি করবেন না অঙ্গীকার করে গেলেন। দেখতে দেখতে ১৫ বছর হলো। তারেক আসবে কোন বছর, মানুষের মনে এখন প্রশ্ন। আসবে কি কখনো?’