Mon. Jan 18th, 2021
কন্যা শিশুর জন্ম হলেই পুরস্কৃত করেন পুলিশ কর্মকর্তা

টাঙ্গাইল পৌরসভার সন্তোষকাগমারি পুলিশ ফাঁড়ির আওতাভুক্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের কন্যা সন্তানের জন্ম নেওয়ার পর ফোন দিলেই মিলছে উপহার সামগ্রী। পুলিশ পরিদর্শক মো. মোশারফ হোসেনর পক্ষ থেকে এসম উপহার সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।

কন্যা শিশু আজ আর বোঝা নয়, আশির্বাদ। কন্যা শিশু মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার এ ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে টাঙ্গাইলের মো. মোশারফ হোসেন একধাপ এগিয়ে এসেছেন। কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়া বাবা-মাকে নিজ খরচে তুলে দিয়েছেন পুরস্কার। তার অফিস কক্ষে ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত ফেস্টুনও ঝুঁলিয়েছেন। কন্যা শিশুর প্রতি এমন মমত্ববোধ প্রদর্শন করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়ে ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমফেসবুকে লিখেছেন, ‘কন্যা সন্তান সমাজের বোঝা নয়, আর্শিবাদ। কন্যা সন্তান আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। কন্যা সন্তান মা-বাবার জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে দুনিয়ায় আগমন করে। ’ গত মঙ্গলবার রাতে এমন স্ট্যাটাস দিয়ে উপহারের ঘোষণা দেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে গত বুধবার ঘোষণার প্রথমদিনেই চার কন্যা শিশুর বাবা-মা ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। উপহার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ‘কন্যা সন্তান আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার’, ‘নবজাতকের আগমনে মা আপনাকে শুভেচ্ছা’লেখা স্মারক, বেবি ডায়াপার ও লোশন।

এ বিষয়ে কাগমারার আ. রউফ মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে। আমার সংসারে যখন আমার তিনটি কন্যা সন্তান থাকার পরও আবার আরেকটি কন্যা জন্ম হল তখন আমার স্ত্রীর সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছি। আজ আমি চারটি কন্যা সন্ত্রান নিয়ে ভাল আছি। পুলিশের এমন কাজের উৎসাহ দেওয়াটা সমাজের ভালো হবে।’

গোলাম রাব্বানী রাসেল নামে এক কন্যা শিশুর বাবা জানান, চলতি মাসের ১ জানুয়ারি তিনি দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছেন। কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় তার পরিবারের বয়োবৃদ্ধরা সন্তুষ্ট হতে না পারলেও তিনি ও তার স্ত্রী  অনেক খুশি। পুলিশ কর্মকর্তার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে পুলিশ ফাঁড়িতে তিনি উপহার নিতে এসেছেন। উপহার সামগ্রী পেয়ে তিনি খুবই আনন্দিত। তার এ উদ্যোগ টাঙ্গাইলের পশ্চিমের চরাঞ্চলের চিরায়ত ধারণাকে অনেকটাই পাল্টে দেবে। তিনি পুলিশ কর্মকতাকে ধন্যবাদ ও তার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

পুলিশ পরিদর্শক মো. মোশারফ হোসেন জানান, তিনি চাকরি সূত্রে বিভিন্ন চরাঞ্চল ও গ্রাম পর্যায়ে ঘুরেছেন। ওইসব এলাকায় কন্যা সন্তান জন্ম হলে মায়েদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে দেখেছেন। বিষয়টি তার কাছে খুবই খারাপ লেগেছে।  সেই খারাপ লাগা থেকে তিনি মূলত চরাঞ্চলের চিরায়ত ধ্যান-ধারণা পরিবর্তনে শরীক হতে কাগমারি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় নবজাতক কন্যা সন্তানের সকল মা’দের পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। সে লক্ষেই  ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে ঘোষণা দেন।

পুলিশ পরিদর্শক আরও জানান, মোবাইল ফোনে অনেকেই প্রশংসা করছেন। সচেতন মহল সাধুবাদও জানাচ্ছেন। প্রথম দিনে চার কন্যা সন্তানের বাবা-মাকে সামান্য উপহার দিতে পেরে তিনি খুবই আনন্দ পেয়েছেন। এ উপহার সামগ্রী প্রদান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

By HerNet

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *