Sat. Jan 16th, 2021
৯৪ শতাংশ নারী গণপরিবহনে হয়রানির শিকার

গত বছর গণপরিবহনে ৫২টি ঘটনায় ৫৯ নারী ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। দেশের মহাসড়কগুলো সিসিটিভির আওতায় আনতে নির্দেশনা রয়েছে উচ্চ আদালতের, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গণপরিবহনকে সিসিটিভির আওতায় আনতে হবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।  

বিশ্বের উন্নত দেশেগুলোর সড়ক মহাসড়ক আনা হয়েছে সিসিটিভির আওতায়। এ পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয়ভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ যেমন করা যায়, ঠিক তেমন কোনো দুর্ঘটনা বা গণপরিবহনে হয়রানির শিকার হলে নেওয়া যায় দ্রুত পদক্ষেপ।

দেশের মহাসড়কগুলো সিসিটিভির আওতায় আনতে নির্দেশনা রয়েছে উচ্চ আদালতের। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। উল্টো ধর্ষণ, যৌন হয়রানির ফলে অনিরাপদ হয়ে গেছে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থা।

গণপরিবহন ব্যবহারকারী নারীদের ওপর জরিপ করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা বলছে, গণপরিবহনে চলাচলকারী ৯৪ শতাংশ নারী হয়রানির শিকার হন। এরমধ্যে শতকরা প্রায় ৮১ জন বিচারপাবেন না জেনে কোনো প্রতিবাদ করেন না।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক তথ্য বলছে, গত বছর গণপরিবহনে ৫২টি ঘটনায় ৫৯ জন নারী ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাহলে গণপরিবহনে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধের উপায় কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের নিরাপত্তায় গণপরিবহনকে সিসিটিভির আওতায় আনার সময় এসেছে। এজন্য দরকার বাস মালিক ও শ্রমিকদের সদিচ্ছা।

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, ‘যদি গণপরিবহনে সিসিটিভি রাখার একটি আইন করা হয় যে, গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে কিন্তু কিছুটা হলেও এই ধরণের অপরাধ প্রবণতা যাদের মধ্যে থাকে, তারা সতর্ক হবেন।’

অপরাধ বিশ্লেষক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী, বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন মিলে একটা কমিটমেন্টে আসতে হবে এবং সেই কমিটমেন্টের বাস্তবায়ন হিসেবে প্রত্যেকটা জায়গায় কমিটি থাকতে হবে।’

যদিও গণপরিবহন মালিক সমিতি বলছে, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে তাদের চেয়ে শ্রমিকদের দায়িত্ব বেশি। সামগ্রিকভাবে সিসিটিভির আওতায় আনা সম্ভব নয় বলেও জানান তারা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘সিটিং সার্ভিস বা আন্তঃজেলা এইসব নর্মাল সার্ভিসে সিসিটিভি আমার মনে হয় না বসানো সম্ভব হবে।’

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, মালিকরা চাইলে প্রতিটি গণপরিবহনকে সিসিটিভির আওতায় আনা সম্ভব। এর জন্য খুব একটা খরচ করতে হবে না।

তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘গণপরিবহনে সিসিটিভি সংযুক্ত করা যেতেই পারে। এর জন্য কিন্তু বেশি টাকাও খরচ হবে না। প্রত্যেকটা পরিবহনে আলাদা সিসিটিভি সেটআপ থাকবে। এটাকে সেন্ট্রাল একটি ডাটাবেজে নিয়ে আসা সম্ভব।’

এর ফলে যৌন হয়রানিসহ যেকোনো অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সহজ হবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

By HerNet

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *