Sat. Jan 16th, 2021
নারী ও শিশু ঝুঁকছে মরণনেশায়

বাড়ছে মাদকসেবী। বাড়ছে মাদক বাণিজ্য। আসছে নতুন নতুন নামে বিভিন্ন মাদক। মরণনেশায় আসক্ত হচ্ছে যুবক-যুবতীরা। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি থেকে শুরু করে খুন-খারাবি পর্যন্ত ঘটাচ্ছে তারা। মাদক বাণিজ্য থেকে সেবনে দিন দিন বাড়ছে নারীদের সংখ্যা। মাদক বাণিজ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশু-কিশোরদেরকেও। দেশে বর্তমানে মাদকসেবী রয়েছে ৬৮ লাখ।

এরমধ্যে নারীদের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। সারা দেশে মাদক কারবারি রয়েছে সাড়ে তিন লাখ। গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবার পরে নতুনভাবে দেশে ছড়ানো হচ্ছে মরণনেশা আইস। গত কয়েক বছর যাবৎ এটি ছড়াতে তৎপরতা চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক মাদক কারবারি চক্র। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণকারী নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশির ভাগই ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে সৃষ্ট হতাশা থেকেই মাদকের দিকে পা বাড়ান। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী লিমা জাহান। বাবা ব্যবসায়ী, মা ডাক্তার। একমাত্র সন্তান লিমা বড় হয়েছেন মোহাম্মদপুরের বাসাতেই গৃহকর্মীদের কাছে। এরমধ্যেই কলেজ জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে ধূমপানে আসক্ত হন। ওই সময়েই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সহপাঠীর সঙ্গে। দু’জনে মিলে অবাধে আড্ডা দিতেন। শিক্ষা সফরসহ নানা অজুহাতে যেতেন ঢাকার বাইরেও। বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ তখন সিগারেটে গাঁজা ভরে সুখ টান দিতো। এটি আকৃষ্ট করে লিমা ও তার প্রেমিককেও। দু’জনেই গাঁজা সেবন শুরু করেন। গাঁজার গন্ধের কারণে লিমা এটি ছেড়ে দিলেও তার প্রেমিক গাঁজাতেই মজে থাকেন। লিমা জানান, এরমধ্যেই প্রেমিক ছেলেটি ফেসবুকে অন্য এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলেটি লিমাকে এড়িয়ে যায়। সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটলেও দীর্ঘদিনের স্মৃতিগুলো লিমাকে স্বস্তি দিচ্ছিলো না মোটেও। সারাক্ষণ ঘরবন্দি অবস্থা। বন্ধুদের থেকেও বিচ্ছিন্ন করে নেয় নিজেকে। ফোনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও দূরে চলে যায়। এরমধ্যেই এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে লিমা। তার মাধ্যমে সংগ্রহ করে ইয়াবা। কষ্ট ভুলে যেতেই ইয়াবায় বুঁদ হয়ে থাকে এই তরুণী। বাড়তে থাকে আসক্তি। ইয়াবার টাকা সংগ্রহ করতে মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে লিমা। এমনকি মায়ের গায়েও হাত তোলে। এরপরই তাকে ভর্তি করা হয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। উত্তরা এলাকার এরকম একটি কেন্দ্রে পাওয়া গেছে কয়েক মডেলকে। র‌্যাম্প মডেলিং করেছেন। কিন্তু ওজন বাড়ছিলো। ইয়াবায় ওজন কমবে, এমন ধারণা থেকেই সেবন শুরু করেন। ওজন কমলে সুন্দর ক্যারিয়ার গঠন করতে পারবেন। কিন্তু ওজন কমলেও আর কোনো কাজ করা হয়নি। হারিয়ে যান মাদকে। বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে ৬৮ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। এদের মধ্যে ৮৪ ভাগ পুরুষ, ১৬ ভাগ নারী। মাদক সেবন থেকে বিক্রি সবকিছুতেই বাড়ছে নারীদের সম্পৃক্ততা। এমনকি ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদেরও। দেশে সাড়ে তিন লাখ মানুষ নানাভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মতে, দেশে মাদকাসক্তের মধ্যে ৯০ শতাংশ কিশোর ও তরুণ। সরজমিন মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নানা কৌশলে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজা। মোহাম্মদপুরে মাদক বিক্রি হচ্ছে ভিন্নভাবে। নির্দিষ্ট ক্রেতারা ফোনে যোগাযোগ করেন। বিক্রেতারা হোম ডেলিভারি পর্যন্ত দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে মাদক কারবারিরা। মোহাম্মদপুরেও খুচরা মাদক বিক্রেতাদের বড় অংশই নারী। নারীদের দিয়ে সহজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিয়ে মাদক বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান মাদক কারবারিরা।

By HerNet

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *