Fri. Jan 22nd, 2021
যেসব সুবিধা পেতে পারে বলে বাংলাদেশ আশা করছে

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন জয়ী হওয়ায় বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক বিগত বছরগুলোর চাইতে আরও ইতিবাচক হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

বিশেষ করে মি. বাইডেন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়ায় বাংলাদেশ পরোক্ষভাবে হলেও এর সুবিধা ভোগ করবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দেয়া জিএসপি বা বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা বাইডেন সরকার পুনর্বহাল না করলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও কিছু ক্ষেত্র প্রসারিত হতে পারে।

এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিরসনেও বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক সমর্থন আরও জোরালো হবে বলে তিনি মনে করছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতি মূল্যবোধের সাথে বাংলাদেশ কিছু কিছু জড়িত আছে। এ কারণে বাইডেন সরকারের সাথে আমাদের সম্পর্ক পজিটিভ হবে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মানবাধিকার এমন আরও নানা ইস্যুতে বাইডেন সরকারের অবস্থান বেশ বলিষ্ঠ। বাংলাদেশ এ থেকে উপকৃত হবে।”

বাইডেন সরকার অভিবাসন-বান্ধব হওয়ায় বাংলাদেশ সরাসরি এর সুবিধা পাবে বলেও জানান মি. মোমেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশীরাও মনে করছেন উদারনীতির এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করায় আমেরিকায় বাংলাদেশিদের প্রবেশ ও বসবাসের সুযোগ বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে তিন বছর ধরে আছেন বাংলাদেশের কুমিল্লার বাসিন্দা আসাদ আজিম।

তিনি বলেন, এবারে সাধারণ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসতেই তিনি সেখানকার অভিবাসীদের দেখেছেন জো বাইডেনের পক্ষে তাদের দৃঢ় সমর্থন জানাতে।

ডেমোক্রেটরা যেহেতু ঐতিহাসিকভাবে উদারনৈতিক তাই বাইডেনের জয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি অভিবাসীরা সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে লাভবান হবে বলে আশা করছেন মি. আজিম।

তিনি মনে করেন এর ফলে বাংলাদেশিদের ভিসা দেয়ার হার যেমন বাড়বে সেইসঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ হবে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পর কাজের সুযোগ, সেইসঙ্গে নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে বলেও তিনি জানান।

ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেন্ট ভিসা সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

জো বাইডেনের জয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ভিসা পুনরায় চালু হবে এবং বহু অভিবাসন প্রত্যাশী আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবে বলে আশা করছেন সেখানে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিরা।

জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্যবসার ক্ষেত্র বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

By HerNet

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *