Sat. Jan 16th, 2021

আমেরিকায় এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সেনেটার কমালা হ্যারিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ঐতিহাসিক লড়াই দেশটির রাজনীতিতে নারীদের প্রতি বৈষম্যের চিত্রটাকে সামনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু কোন পদের জন্য লড়াইয়ের যে নিয়মনীতি তা কি নারী আর পুরুষদের জন্য আলাদা?

কমালা হ্যারিসের মনোনয়নের বিষয়টা থেকে বেরিয়ে এসেছে কয়েক দশক ধরে আমেরিকায় রাজনীতিতে আসা নারীদের কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে এবং কীভাবে এক্ষেত্রে অবস্থার পরিবর্তন আসছে। বিষয়য়টি বিশ্লেষণ করেছেন রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর আমেরিকান উইমেন অ্যান্ড পলিটিক্সের পরিচালক ডেবি ওয়ালশ্।

রাগ না প্রকাশের কৌশল

রাজনীতি করতে আসা নারীদের নিজের দৃঢ়তা প্রকাশ করা আর আগ্রাসী আচরণ করা – এ দুয়ের মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যটা বুঝতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের অবচেতনে নারী আর পুরুষকে বৈষম্যের চোখে দেখার যে সংস্কৃতি রয়েছে, তাতে একজন পুরুষের যে আচরণকে ‘আত্মবিশ্বাসী’ হিসাবে দেখা হবে, সেখানে একজন নারীর একই আচরণকে ‘ক্ষমতার জাহির’ হিসাবে গণ্য করা হবে।

আবার সেই নারী যদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হন, এই বৈষম্যের ক্ষেত্রে বর্ণের ব্যাপারটাও যোগ হয়। আমেরিকায় “অ্যাংরি ব্ল্যাক উওম্যান” বা “রাগী কৃষ্ণাঙ্গ নারী” বলে একটা কথা প্রচলিত আছে, যার সাথে একটা বর্ণ সম্প্রদায়ের নারীদের যুক্ত করা হয়েছে। উনবিংশ শতকে এই প্রবচন চালু হয়েছিল, কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের অনারীসুলভ, অযৌক্তিক এবং কঠিন হিসাবে তুলে ধরতে।

মিস ওয়ালশ্ বলছেন: “একটা অভিযোগ আছে যে, নারীরা প্রেসিডেন্ট বা ভাইস-প্রেসিডেন্ট হবার মত শক্ত মনের নন, তাদের যথেষ্ট দৃঢ়তা নেই। কিন্তু চরিত্রের দৃঢ়তা বা আপনার কঠিন হবার ক্ষমতা আপনি কীভাবে দেখাবেন, যদি আপনার রাগ আপনি প্রকাশ করতে না পারেন?”

তিনি মনে করেন, ভাইস-প্রেসিডেন্ট টিভি বিতর্কের সময় কমালা হ্যারিস দলের মত তুলে ধরেছেন বেশ সাফল্যের সাথেই। কিন্তু তার মতে, কোন কোন ক্ষেত্রে মনে হয়েছে তিনি যথেষ্ট শক্ত অবস্থান নেননি। যদিও অবশ্য, তিনি মনে করেন, তাকে কথা বলতে বাধা দেয়ার সময় মিস হ্যারিস যেভাবে বিনীত সুরে তার উত্তর দিয়েছেন, তা ছিল “দুর্দান্ত”। নারীদের কথা বলতে না দিয়ে তাদের কথার ওপর পুরুষদের কথা চাপিয়ে দেবার অভিজ্ঞতা যেসব নারীর হয়েছে, তারা কমালা হ্যারিসের অনুভূতি পুরোই উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলে মিস ওয়ালশের মত।

নারী কি নেতৃত্বের যোগ্য?

কিছু বিশেষজ্ঞ যুক্তি দেখাবেন, কোন নারী যোগ্য কিনা তা প্রমাণ করতে হলে তাকে প্রচারণার সময় পুরুষের থেকে আরও ভাল করতে হবে। ভোটারদের কাছে প্রার্থীর লিঙ্গ কোন বিবেচ্য বিষয় না হলেও নারী প্রার্থীদের যোগ্যতার বাড়তি প্রমাণ দিতে হবে। একজন পুরুষ প্রার্থী যোগ্য সেটা মানুষ ধরেই নেয়, কিন্তু নারী প্রার্থীকে তার প্রমাণ দেখাতে হয়।

অগাস্ট মাসে ইকোনমিস্ট সাময়িকী ও ইউগভ-এর চালানো যৌথ সমীক্ষায় দেখা যায়, বর্তমান ভাইস-প্রেসিডেন্ট মি. পেন্স, মিস হ্যারিসের চেয়ে পছন্দের বিচারে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের এক চতুর্থাংশ আমেরিকান বলেন মিস হ্যারিস সম্পর্কে তাদের ধারণা স্পষ্ট নয়, আর মি. পেন্স সম্পর্কে একই মতামত দেন মাত্র ১৪%।

কিন্তু বিতর্কের পর, বেশিরভাগ ভোটার বলেন তাদের মনে হয়েছে মিস হ্যারিস জয়ী হয়েছেন। কিন্তু যখন তাদের প্রশ্ন করা হয়, প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নিতে হলে কে বেশি যোগ্য, তখন জরিপের ফলাফলে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ আমেরিকান – ৫৬%- মনে করেন, মি. ট্রাম্প যদি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে মি. পেন্স সেই দায়িত্ব পালনে সুযোগ্য হবেন। এ ব্যাপারে মিস হ্যারিসকে যোগ্য মনে করেছেন ৫০% আমেরিকান।

নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৫৩% মি. পেন্সের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখেন, আর ৪৪% মিস হ্যারিসের যোগ্যতার ওপর আস্থাশীল।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ হয়ত মনে করতে পারেন যে, বর্তমানে ভাইস-প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণে এমন একজনের থেকে বেশি যোগ্য হবেন, যিনি বর্তমানে প্রথম মেয়াদে একজন সেনেটারের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর পক্ষে যারা, তারা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন যে, রাজনীতিতে পুরুষের তুলনায় নারীদের আরও বেশি যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হয়।

By HerNet

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *