Fri. Jan 15th, 2021

সম্প্রতি ধর্ষণের বিরুদ্ধে জনগণ এবং বেশিরভাগ নারীর কোলাহল সামাজিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকেও নাড়া দিয়েছে। প্রত্যেকেই তাদের ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিবাদ, অভ্যন্তরীণ বিরক্তি, সম্ভাব্য সমাধান এবং গাইডলাইন প্রকাশ করছে। আজ আমরা লেখক এবং কবি মাহজাবিন আহমদ মিমির ফেসবুকের স্ট্যাটাসটি শেয়ার করছি।

এগুলোর মধ্যে সিলেট এমসি কলেজ ও নোয়াখালি বেগমগঞ্জের দু’টি ঘটনায় ছাত্রলীগের নাম এসেছে। কৌতূহলের বিষয় হলো, বাকি ১১ টি ঘটনা না মিডিয়া, না পাবলিক, কারো নজরেই সেভাবে এল না। ধোঁয়া ধোঁয়া ভাবে মাদ্রাসা সুপার, গীর্জার ফাদার, মসজিদের ঈমাম এদের কুকর্মের কথা হালকা উল্লেখ করেই সকলে ক্ষ্যান্ত। কেন জানেন ??ওগুলের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে। ওজু করতে ঘর থেকে বের হওয়া ৭০ বছরের বৃদ্ধা, পিতা কর্তৃক কন্যা, মুদি দোকানে সদাই কিনতে যাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েটি…

এদের ওপর ঘটে যাওয়া পাশবিক নির্যাতনের বিষয়ে জামাতী, বামাতী, বিএনপির ছাগল এবং ধর্ষক নুরা সহ তাদের দোসররা এবং আমাদের কুশীল-সুশীল বাবুরা সরব, নিরব কোনো প্রতিবাদের ধারে কাছেও নেই। কেন? আমি নিশ্চিত, সহমর্মী ফেইসবুকাররা তাদের প্রোফাইলে সাময়িক কালো পর্দা টেনেছেন মনে মনে “ছাত্রলীগ” দ্বারা সংঘটিত সিলেট ও নোয়াখালীর ঘটনা দু’টোকে সামনে রেখে।এখানে আমার অবস্থান স্পষ্ট, যে কোনো সুস্থ, শুদ্ধ মানুষের মতোই আমিও নারীর প্রতি সকল সহিংসতার বিপক্ষে। তবে তার মানে এই নয় যে আমি কতিপয় কুশীল-সুশীলের মতো ধর্ষণের ঘটনা বেছে বেছে সোচ্চার হবো। আমি সুযোগ পেলে, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক মুজিবকোটে আগুন দেয়া, জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ডে আগুন জ্বালানো এই সমস্ত দ্বিচারী মনোভাবের অনুসারীদের দু’ঘা লাগাতে পিছপা হব না। এই সমস্ত দ্বিমুখী নষ্টামীর একটা সীমা আছে। নারীর প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতা, পাশবিকতার সঙ্গে দেশকে অস্থিতিশীল করে দেয়া সরকার পতনের আন্দোলনের কি সম্পর্ক?

এসব বদমাশদেরকে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যেখানে লেখা থাকে “ধর্ষণের বিচার পরে, আগে শেখ হাসিনার পদত্যাগ চাই”। তাহলে দেখা যাচ্ছে এদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একাত্তরের ধর্ষক জামাত গোষ্ঠী এবং খাম্বা চোরা তারেক রহমানকে বাংলাদেশের বুকের ওপর অশুভ জগদ্দল পাথরের মতো আবার চাপিয়ে দেয়া। আওয়ামী লীগ সরকার অপরাধী, ধর্ষক, হত্যাকারী সকলকেই বিচারের আওতায় আনে। জামাত-বিএনপি গোষ্ঠী হাজার হাজার নারী নির্যাতনের হোতা ছাত্রদল, যুবদল, শিবিরের কোনো একটি কুলাঙ্গারেরও দৃশ্যমান শাস্তি বিধান করেনি। তারা এখন এসেছে শাহবাগে জমায়েত হয়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে???নিয়মসঙ্গত প্রতিবাদ চলতেই পারে। কিন্তু সেটার নামে এসব শয়তানি, কূটচাল শক্ত হাতে এক্ষুনি দমন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এবং মাহজাবিন আহমদ মিমির সেই ফেইসবুক স্টেটাস এ কমেন্ট করেছেন অনেক রাজনৈতিক নেতা ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা ,
তার মধ্যে কিছু অন্যতম বক্তব্য তুলে ধরা হলো ;

Mohammad Ali Arafat : Best post so far on this issue. Many thanks. I hope the blinds will see the truth after this.

শৈবাল তালুকদার : Thank you! Could not said it better. What perplexes me is why the perpetrators of other incidences are still roaming free!

Faiza Prodhan Mejjy : Sometimes it’s better not to waste energy on deaf minded people. It’s enough of talking about problems—it’s time to talk to the problems, well said mimzi.

Shabbir Ahmed : khala great analysis and bang on target!!! after delving into your post the confused AwamiLeaguers like me will wake up and the anti AwamiLeaguers will be tight lipped.

Johirul Islam : মিডিয়া আর সুশীলরা ব্যস্ত ছাত্রলীগ নিয়ে। সবকিছুতেই ছাত্রলীগের গন্ধ খুঁজে তারা। ছাত্রলীগকে না জড়ালে তাদের মিডিয়া প্রচার পায় না। সম্প্রতি সকল ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিচার হয়েছে এবং চলছে। নুরু গং দ্বারা ধর্ষিত মেয়েটি ধারে ধারে ঘুরছে বিচারের জন্য মিডিয়া ও সুশীলদের নজর সেদিকে নেই। নুরুদের ধর্ষণের পক্ষে তারা। আবার অন্যদের ধর্ষণের বিচার হচ্ছে তা নিয়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে ব্যস্ত তারা। এরা ধর্ষণের বিচার চায় না এরা শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশে একটা সহিংসতা চায়। ঘোলা পানিতে মাছ ধরার ব্যর্থ চেষ্টা। এসবে কাজ হবে না। শেখ হাসিনার সরকার নড়ানো সম্ভব নয়।

Farhana Mily Khushi : গোবরের পদ্মফুলে জন্ম যাদের তারা তো গন্ধ পেলেই ছুটে চলে, ডাস্টবিন হোক আর গোবর হোক। তারা বাগান আর গোবরের আড়ত এর তফাৎ বুঝেনা কখনোই। কুলাঙ্গার গুলি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটা সুযোগ্য বিকল্পের সন্ধান দিয়ে দেখাক, তবে কথা বলবো। প্রতিবাদ করতে যেয়ে সুনির্দিষ্ট পক্ষ বেছে যারা প্রতিবাদ করে তারা নিঃসন্দেহে ইতর এবং পরোক্ষভাবে ধর্ষকপক্ষ। অন্যায় যে ই করুক, প্রত্যেক অপরাধীর একটাই পরিচয় সে অপরাধী। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, ছাত্রলীগ কে আরেকটু সংযত রাখার দায়িত্ব আওয়ামিলীগ কে ই নিতে হবে। তাদের কে সংসদ সদস্যদের প্রভাব মুক্ত করতে পারলেই অনেক অপকর্ম থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে বলে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি। আর আওয়ামিলীগ নিজের প্রয়োজনেই ছাত্রলীগের ক্ষমতার হাত কে সংযত করতে কাজ করতে হবে। ছাত্রলীগের নেতাদের সীমাহীন অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ করতে হবে। কেননা, অর্থ ই যে অনর্থের মূল তা ছাত্রলীগ সবচেয়ে বেশি প্রমাণ করেছে। আমার দৃষ্টিতে ইমাম, মাদ্রাসার সুপার, গীর্জার ফাদার আর ছাত্রলীগ সবার অপরাধ সমান। তবে যেহেতু ছাত্রলীগ একটা সচেতন রাজনৈতিক সংগঠনের অংশ এবং তারা একটা পরিচ্ছন্ন শিক্ষিত সংগঠন, তাই নিঃসন্দেহে আমি ছাত্রলীগ কে বেশি অপরাধী হিসেবে ধরে নেবো।তবে, আমার প্রথম এবং শেষ বক্তব্য একটাই হবে। আর তা হচ্ছে, অপরাধীর কোন সাংগঠনিক পরিচয় নেই, সে অপরাধী এটাই তার মৌলিক পরিচয় হওয়া উচিৎ। যারা সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির অপরাধ এর প্রতিবাদ করার অভিনয় করে আর সুযোগ্যদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে কুৎসা রটিয়ে বেড়ায় তারা নিঃসন্দেহে লম্পট-শ্রেষ্ঠ। এইসব লম্পট-শ্রেষ্ঠদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হোক। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।#জয়_বাংলা_জয়_বঙ্গবন্ধু |

Abu Bakar আপা সম্ভবত আপনি ভুল ভাবে সমস্যাটি পর্যবেক্ষন করছেন। লিংক টি দিলাম দেখুন তার পর একটু মাথা ঠান্ডা করে ভাবুন সমস্যাটি কোথায়। আসলে জনগনের ফান্ডামেন্টাল অধিকার কেড়ে নেয়ায় যে অব্যবস্থাপনা আর ব্যাক ফায়ার হয় সেটাই হচ্ছে এখন। আপনারা হয়তো নিরাপদে আছেন তাই বলে আপামর জনগণ নেই। ভীষণ অনিরাপদ দেশ এখন। আমাকে ভুল বুঝবেন না। মঙ্গল কামনায়। https://www.facebook.com/photo?fbid=3184585151767761&set=a.1755075828052041

Zia Us Sobhan : সিলেট ও নোয়াখালীর দুই ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং হচ্ছে। তাহলে ভিক্টিম কর্তৃক মামলা থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে কোটা নুরু ও মারজিয়া প্রভাকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? আইনের প্রয়োগ দুইরকম কেন? আমি এদেরকেও গ্রেফতারের দাবী তুললাম আমার এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। আপনাদের সবাইকে পাশে পাব এই দাবীর সমর্থনে।

By HerNet

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *