Sat. Jan 16th, 2021
সৌদি আরবে পাশবিক নির্যাতন

সৌদি আরবে গৃহকর্তা ও তার ছেলে মিলে কুলসুমের দুই হাঁটু, কোমর ও পা ভেঙে দেয়। এর কিছুদিন পর একটি চোখ নষ্ট করে রাস্তায় ফেলে দেয়

পরিবারে একটু প্রশান্তির আশায় সৌদি আরবে গিয়েছিল ১৪ বছরের কিশোরী কুলসুম। সেখানে গিয়ে চাকরি আর বেতনের পরিবর্তে তাকে হতে হয় চরম নির্যাতনের শিকার। নির্মম অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালেই ফুরিয়ে যায় তার জীবন প্রদীপ। 

তাই শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরতে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোর্কণ ইউনিয়নের মেয়ে কুলসুমকে। 

কুলসুমের বড় বোন বলেন, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় কুলসুমের। পরে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে। শনিবার দুপুরে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। 

নিহতের বাবা জানান, ১৭ আগস্ট জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে তিনি তার মেয়ের লাশ ও আট মাসের বকেয়া বেতন ফেরত পেতে একটি লিখিত আবেদন করেন। লিখিত অভিযোগ তিনি বলেন, স্থানীয় দালাল রাজ্জাক মিয়ার মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ১৭ মাস আগে মেসার্স এম এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে কুলসুমকে গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরব পাঠানো হয়। 

তিনি বলেন, “সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে যোগদানের পর থেকেই আমার মেয়ে কুলসুমের ওপর নির্যাতন শুরু করে মালিকপক্ষ। নির্যাতনের কারণে মেয়েকে ফিরিয়ে আনার জন্যে রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। চার মাস আগে সৌদি আরবে গৃহকর্তা ও তার ছেলে মিলে কুলসুমের দুই হাঁটু, কোমর ও পা ভেঙে দেয়। এর কিছুদিন পর একটি চোখ নষ্ট করে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে সৌদি আরবের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সেখানকার কিং ফয়সাল হাসপাতালে ভর্তি করে। গত ৯ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যায় কুলসুম।”

এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আরিসুল হক বলেন, “দুই দেশের বিষয় হওয়ায় নাসিরনগর থানা পুলিশের পক্ষে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে আমরা কোনো ধরনের নির্দেশনা পাইনি। তাই আপতত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

By HerNet

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *