Fri. Jan 22nd, 2021

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর কম বয়সী দু’জন হামলা করেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দুজনের উপস্থিতির বিষয়টি দেখা গেছে, তবে তাদের চেহারা অস্পষ্ট বলেও জানান তিনি।

হামলাকারীদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইউএনও ওয়াহিদার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বাসার সামনের সিসিটিভি ফুটেজে হালকা গড়নের কম বয়সী দুজনকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে তাদের চেহারা অস্পষ্ট, চেনা যাচ্ছে না। তারা ইউএনওকে হাতুড়ি জাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করেছে বলে মনে হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্থানীয় পুলিশ সুপার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আশা করছি, দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের সম্ভব হবে। ক্লু পেতে কাজ করছেন তারা।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘চিকিৎসাধীন ওয়াহিদা খানমের সেন্স আছে এবং স্পষ্ট কথা বলতে পারছেন। তিনি হামলাকারী কাউকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে কারো সঙ্গে কোনো ধরনের শত্রুতা ছিলো না। এখন পর্যন্ত হামলার কারণটি অস্পষ্ট। তদন্ত চলছে, হামলাকারীদের বের করার চেষ্টা চলছে।’

ওয়াহিদার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যগত অনেক প্যারামিটার ইমপ্রুভ করলেও ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে আউট অব ডেঞ্জার বলা যাচ্ছে না। কারণ নিউরো রোগীর ক্ষেত্রে পুরোপুরি সব কিছু বলা যায় না। তাকে আপাতত বিদেশ নেয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে প্রয়োজন হলে আমরা সবটাই করবো। তবে আমাদের রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসা বিশ্বমানের। এখানে ব্লাডের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রয়োজনে সিনিয়র নিউরো চিকিৎসকদের সহযোগিতা নেয়া হবে।’

এ সময় ইউএনওদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইউএনওদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইউএনওদের বাসভবনে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টার দিকে সরকারি বাসভবনে ঢুকে দিনাজপুরে ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার পিতার ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলীকেও আহত করে দুর্বৃত্তরা।

দুর্বৃত্তরা সরকারি বাসভনের ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে ঢুকে প্রথমে ওমর আলীকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে তারা ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়িভাবে তাকেও হাতুরি দিয়ে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদেরর উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের রংপুরে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ইউএনওকে রংপুরে ডক্টরস হাসপাতালের আইসিইউতে এবং তার বাবাকে রংপুর মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। পরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর থেকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেয়া হয়।

By HerNet

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *